বিজ্ঞাপন

একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা-বাবা

একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা-বাবা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় হামের উপসর্গ নিয়ে তাথৈ বিশ্বাস নামের চার বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত তাথৈ বিশ্বাস ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের কালিবাবু রোড এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক চঞ্চল বিশ্বাসের একমাত্র মেয়ে। সে আলফাডাঙ্গা সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রি-প্রাথমিক(শিশু ওয়ান) শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) হঠাৎ হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুটি ভর্তি হয়। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে।

ঘটনাটি নিয়ে আলফাডাঙ্গা সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শমশের উদ্দিন বলেন, তাথৈ আমাদের বিদ্যালয়ের প্রি-প্রাক শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। খুবই চটপটে একটি মেয়ে। গত পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে সে 'বউ' সেজেছিল। সেই স্মৃতিগুলো এখন আমাদের তাড়া করে ফিরছে। বিদ্যালয়ের প্রতিটি কোণে তার হাসি মিশে আছে। এই অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। গরমে শিশুদের বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। আমরা উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে হাম রোগীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। সবাইকে যার যার জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, হাম উপসর্গ নিয়ে একটি শিশুর মৃত্যুর সংবাদ আমরা পেয়েছি। এটি একটি করুণ মৃত্যু। 

শিশুটির বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে কথা হয় আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের দফাদার মো. সাহিদ শেখের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। চঞ্চল বিশ্বাসের একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গতকাল রাতেই শিশুটির মরদেহ আলফাডাঙ্গায় নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর প্রতিবেশীদের আহাজারিতে পুরো এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। রাতেই স্থানীয়ভাবে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

জহির হোসেন/আরকে