৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঝালকাঠি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ২০১৯ সালে শুরু হয়ে ২০২১ সালে নির্মাণকাজ শেষ এবং ২০২২ সালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হলেও এখনও চালু হয়নি প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কার্যক্রম।
এতে একদিকে যেমন সরকারের বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ কার্যত অচল হয়ে আছে, অন্যদিকে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন প্যারামেডিকেল শিক্ষার সুযোগ থেকে। তবে বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো একাডেমিক পাঠদান আংশিকভাবে এ ক্যাম্পাসে পরিচালনার উদ্যোগ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ‘মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) নির্মাণ প্রকল্প’ নামে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ১৭ জুন এবং শেষ হয় ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২৩ জুন ভবনটি ঝালকাঠির সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হয়েছে ৩৩ কোটি ১৫ লাখ ১৯ হাজার টাকা।
প্রকল্পের আওতায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একাধিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩তলা একাডেমিক ভবন, ৪তলা পুরুষ হোস্টেল (১১৪ জন শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা), ৩তলা মহিলা হোস্টেল (৭৬ জন ছাত্রীর আবাসন সুবিধা), প্রিন্সিপাল কোয়ার্টার, অফিসার ও স্টাফ কোয়ার্টার, ড্রাইভার কোয়ার্টার ও গাড়ির গ্যারেজ, ৩১৫ কেভিএ সাব-স্টেশনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। পাশাপাশি সীমানা প্রাচীর, গার্ডরুম, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, বৈদ্যুতিক লাইন, নলকূপ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও স্থাপন করা হয়েছে।
তবে এতসব অবকাঠামো নির্মাণের পরও প্রতিষ্ঠানটি চালু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আক্কাস সিকদার অভিযোগ করে বলেন, বছরের পর বছর ভবনগুলো অব্যবহৃত পড়ে আছে। যদিও এখানে অস্থায়ী একটি সেনাক্যাম্প থাকায় ভিতরের সরঞ্জাম চুরি হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। আমরা চাই দ্রুত এর একাডেমিক কার্যক্রম চালু হোক।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঝালকাঠির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. বাহারুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের সব কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করে যথাযথভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু একাডেমিক কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় স্থাপনাগুলো অব্যবহৃত রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
একই দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. সোহেল বলেন, প্রতিষ্ঠানটি চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দেশের আরও কয়েকটি স্থানে নির্মিত ম্যাটস ভবন চালু হচ্ছে না। তবে এটিকে কাজে লাগাতে ভিন্ন কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করতে পারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ঝালকাঠির সিভিল সার্জন মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ম্যাটস চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের কোনো এক বা দুই বর্ষের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। সিদ্ধান্ত হলে দ্রুত কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, সময়মতো কার্যক্রম চালু না হওয়ায় প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত প্রতিষ্ঠানটি চালু করা না হলে সরকারের এই বড় বিনিয়োগ কার্যত অপচয়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এসএইচএ
