গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়িতে পৃথক বজ্রপাতে এক শিক্ষার্থীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচজনের মধ্যে সুন্দরগঞ্জে একই স্থানে তিনজনের মৃত্যু হয়। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। পাশাপাশি বজ্রপাতে একটি ঘোড়া ও একটি গরুও মারা গেছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে বজ্রপাতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে একসঙ্গে তিনজনের মৃত্যু হয় এবং একজন আহত ও একটি গরুর মৃত্যুর হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মোকলেছুর রহমান মন্ডল।
সুন্দরগঞ্জে নিহতরা হলেন- দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (১৪), আল মোজাহিদ চৌধুরী ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১২) এবং নবীন হোসেনের ছেলে মিজানুর (২০)। এ ঘটনায় আহত শামীম (১৮) একই গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার ছেলে। নিহত রাফি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। এ সময় ওই দুই তরুণ ও শিশু শিক্ষার্থী বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ তাদের ওপর সরাসরি বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তারা তিনজন মারা যায়। একই সময়ে পাশে থাকা একটি গরুও মারা যায়। আহত শামীমকে স্বজনরা উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মোকলেছুর রহমান মন্ডল বলেন, বিকেলে ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এমন আকস্মিক ও করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সুন্দরগঞ্জ থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে বলেন, বজ্রপাতে তিনজন মারা গেছেন। একটি গরুও মারা গেছে এবং একজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের জামিরা চরে ঘোড়ারগাড়ি চালাতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘোড়াসহ মানিক হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই এলাকার শুক্কুর আলীর ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আজহারুল হান্নান। তিনি জানান, আজ বিকেলে আকাশ খারাপ দেখে ওই যুবক ঘোড়াসহ বাড়ি ফিরছিলেন। পথে চরে বজ্রপাত হলে ঘোড়াসহ ওই যুবকের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকেলে ঘোড়ার গাড়ি চালানোর সময় বজ্রপাতে মানিকের ঘোড়াটি ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়। এছাড়া মানিক আহত হলে তাকে চিকিৎসার জন্য সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। এছাড়াও একই উপজেলার ফজলপুর ইউনিয়নের বুলবুলির চরে আলী আকবর নামে এক কৃষক গরু চরাতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া, জেলার সাঘাটা উপজেলায় বজ্রপাতে নম্বার আলী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। নম্বার আলী উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের মৃত কছির উদ্দিনের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাসিরুল আলম স্বপন। তিনি জানান, বিকেলে বৃষ্টির সময় বাড়ির পাশেই ছাগল দেখতে গেলে হঠাৎ বজ্রপাতের তিনি গুরুতর অসুস্থ্য হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এএমকে
