চট্টগ্রামে তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। দিনে-রাতে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগর ও গ্রামাঞ্চলের জনজীবন। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই বাজারে বেড়েছে চার্জার ফ্যান, আইপিএস ও সোলার প্যানেলের চাহিদা। সঙ্গে বেড়েছে এসব পণ্যের দামও।
নগরের বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও কোথাও টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে গরমে দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। রাতে লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত হচ্ছে, আর দিনে কাজকর্মেও পড়ছে বড় ধরনের প্রভাব। ফলে এই সংকট থেকে রেহাই পেতে বিকল্প বিদ্যুৎ সরঞ্জামের দিকে ঝুঁকছেন সাধারণ মানুষ।
নগরের ইলেকট্রনিকস দোকানগুলোতে দেখা গেছে, কয়েকদিন আগের তুলনায় চার্জার ফ্যানের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে ছোট সোলার সেট ও ব্যাটারি চালিত আইপিএসের চাহিদাও বাড়ছে।
কিন্তু এই সংকটের সুযোগে বেড়েছে বেশ কিছু ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও বিদ্যুৎ সরঞ্জামের দাম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে ছোট-বড় ফ্যানের দাম বেড়েছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। আর আইপিএসের দাম বেড়েছে ২ থেকে ৪ হাজার। বাজারের বিভিন্ন কোম্পানির চার্জার ফ্যান পাওয়া যাচ্ছে। আকারভেদে ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকার ফ্যানের প্রতি ক্রেতাদের চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছে বিক্রেতারা।
নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকার হারুন ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত এক সপ্তাহে চার্জের ফ্যানের বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। মানুষ এখন বিদ্যুতের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে পারছে না, তাই বিকল্প খুঁজছে। অনেক সময় স্টক রাখতে পারছি না।
নগরীর চকবাজার এলাকার ইশা ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী মুরাদ বলেন, শুধু ফ্যান না, ছোট সোলার সেট আর আইপিএসের চাহিদাও অনেক বেড়েছে। আগে যেগুলো মাসে বিক্রি হতো, এখন কয়েক দিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
নগরের চকবাজার এলাকার বাসিন্দা সাইফুল আলম বলেন, দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বাসায় বাচ্চা আছে, গরমে থাকা যায় না। তাই বাধ্য হয়ে চার্জের ফ্যান কিনেছি।
নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দা ইমরান হোসাইন বলেন, বৈশাখ মাসের গরম আর লোডশেডিং কারণে বাসায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে আইপিএস কিনতে হয়েছে। ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। যা সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
একই এলাকার গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, রাতে ঘুমানোই কষ্ট হয়ে গেছে। ফ্যান বন্ধ হয়ে গেলে বাচ্চারা কাঁদে। এখন সোলার নেওয়ার চিন্তা করছি, যাতে অন্তত ফ্যানটা চালানো যায়।
এদিকে বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন ঘাটতি ও বাড়তি চাহিদার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে চাপ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকটও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। জ্বালানি সংকটের কারণে চট্টগ্রামের অন্তত ৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে; যার ফলে লোডশেডিং বেড়েছে।
এদিকে, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তা না হলে গরমের এই সময়ে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিদুৎ বিতরণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে ১ হাজার ৪৮০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। বিপরীতে গড়ে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে।
আরএমএন/ডিএ
