বিজ্ঞাপন

‘তৃতীয় মাইরের পরে বোঝা যাবে যে, তোমরা শক্তভাবে খাড়াইছো’

‘তৃতীয় মাইরের পরে বোঝা যাবে যে, তোমরা শক্তভাবে খাড়াইছো’

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে কেন্দ্রীয় কৃষক দল নেতার একটি ভিডিও বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে। তবে ভাইরাল হওয়া ওই বক্তব্য তার কথা বিকৃত করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির কারসাজির মাধ্যমে তৈরি করা বলে দাবি করেছেন ওই নেতা।

ওই নেতার নাম খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে ১১ দল সমর্থিত প্রার্থী জামায়াতের ইলিয়াস মোল্লার কাছে পরাজিত হন। এ ছাড়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কিছুদিনের জন্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন খন্দকার নাসিরুল।

গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নের চরভাটপাড়া গ্রামে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন খন্দকার নাসিরুল ইসলাম।

এ সংক্রান্ত ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ৩টার (২৬ এপ্রিল) এক প্রবাসী তার ফেসবুক পেজে ৩৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি আপলোড করেন। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

ওই ভিডিওতে খন্দকার নাসিরুলকে কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়, এখানে আমি আসব আগামী শুক্রবার। ইনশাআল্লাহ, দেখা হবে। খাওয়া দাওয়ার কোনো ব্যবস্থা হবে না। আমি সকাল ১০টায় আসব। তোমাদের দলের লোকজনের সঙ্গে দেখা করব। নামাজ পড়ে আমি চলে যাব।

তিনি আরও বলেন, তোমরা এক মাইর খাইছো, এক মাইর দিছো, তৃতীয় মাইরের পরে আমি যাব। তৃতীয় মাইরের পরে বোঝা যাবে যে তোমরা শক্তভাবে খাড়াইছো। এ সময় পাশ থেকে তার এক সমর্থক তাকে বলেন, ওই তো মিটিং কইরা যাওয়ার পরে হবে, ভাই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খন্দকার নাসিরুলের এ মন্তব্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। নিজ দলের প্রতিপক্ষের ওপর এমন হামলার উসকানি দেওয়ার ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বিবাদমান আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্ব দেন খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং অন্য পক্ষের নেতৃত্ব দেন বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু।

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শামসুদ্দিন মিয়া ও খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। পরে খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। যদিও ওই নির্বাচনে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম জামায়াত প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। পরাজিত হওয়ার পর খন্দকার নাসিরুল ইসলাম তার পরাজয়ের জন্য শামসুদ্দিন মিয়া গ্রুপকে দায়ী করেন।

খন্দকার নাসিরুলের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে শামসুদ্দিন মিয়া বলেন, আমরা আজীবন বলে আসছি তিনি একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। আজকে ভিডিওর মাধ্যমে বিশ্ববাসী তার আসল রূপ জানলো। ওই লোক এমনই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়।

তিনি বলেন, তার এই হুমকিতে আমি ও আমার নেতাকর্মীরা আতঙ্কিত অবস্থায় আছি।

জামায়াত ও প্রতিপক্ষ বিএনপির গ্রুপ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমার বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার করছে, দাবি করে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, আমি ওই কথা বলিনি। আমি বলেছি, তোমরা একবার মাইর খাইছো, আরেকবার মাইর দিছো। এই মারামারি আর করা যাবে না। এলাকায় তোমাদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে হবে। সেটাই এআই দিয়ে বিকৃত করে প্রচার করা হয়েছে। 

জহির হোসেন/এমএএস

 

বিজ্ঞাপন