পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে অন্তত পাঁচটি বসতঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এ ছাড়া, অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে উপড়ে পড়েছে শতাধিক গাছপালা, ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ভোর রাতে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ,সলিমপুর গ্রামসহ আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরের পর থেকে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে তীব্র ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। সারাদিন-রাত ভারী বৃষ্টি ও বাতাস অব্যাহত থাকে। পরে জানা যায়, নবাবগঞ্জ গ্রামের মন্নান বয়াতি, মরিয়ম ও মাধবের বসতঘর এবং সলিমপুর গ্রামের নির্মল বিশ্বাস ও বিমল বিশ্বাসের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবার বর্তমানে আশ্রয় নিয়েছে প্রতিবেশীদের বাড়িতে।

এ ছাড়া, উপজেলার লতাচাপলী, মহিপুর, ধুলাসার ও মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বহু বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে হতদরিদ্র পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং তারা চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।
নবাবগঞ্জ গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত মন্নান বয়াতি বলেন, দিনের শুরু থেকেই ঝড় শুরু হয়। প্রথমে মনে হয়েছিল সাধারণ ঝড়, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে বাতাস এত জোরে বইতে থাকে যে ঘরের টিনের চাল উড়ে যায়। আমরা কোনোরকমে বাইরে বের হয়ে প্রাণে বাঁচি। চোখের সামনে আমার পুরো ঘরটি ধসে পড়ে। এখন আমাদের থাকার মতো কোনো জায়গা নেই, সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে।

সলিমপুর গ্রামের আরেক ক্ষতিগ্রস্ত নির্মল বিশ্বাস বলেন, ঝড়ের সময় আমরা খুব আতঙ্কে ছিলাম। বাতাসের শব্দে কিছুই শোনা যাচ্ছিল না। হঠাৎ একটি বড় গাছ ঘরের ওপর পড়ে পুরো ঘর ভেঙে দেয়। এখন পরিবার নিয়ে বিপদে আছি। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে আমাদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তাদের সহায়তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
এসএম আলমাস/এএমকে
