রাজনীতির মাঠে নামতেই চারদিক থেকে নানা চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে- এমনি অভিযোগ তুলেছেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি। এর আগে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়ার পর নিজ এলাকা পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন তিনি।
এদিকে সোমবার (২৭ এপ্রিল) ‘Kafi’ নামক পেজ থেকে ফেসবুক লাইভে এসে কাফি অভিযোগ করেন, এনসিপি দলে যোগ দেওয়ার কারণে ২ বছর ধরে যে বাড়িতে তিনি ভাড়া থাকছেন সেই বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ পেয়েছেন। এমনকি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই তার পেশাগত জীবনের ওপর সরকারি দলের বিভিন্নজনের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
ভিডিওতে তিনি জানান, এক বছরের জন্য তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। হঠাৎ করেই সেই চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। কাফির ভাষায়, রাজনীতিতে আসার পর অল্প সময়েই বড় দুটি ত্যাগ স্বীকার করতে হলো।
তার দাবি, নিজের বাসার ছাদে একটি ইন্টারভিউ দেওয়াকে কেন্দ্র করে অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের আপত্তি তৈরি হয়, যা তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণেই হয়েছে।
ভিডিওতে কাফি বলেন, রাজনৈতিক দলে যুক্ত হওয়ার কারণে আমি যে কোম্পানির সঙ্গে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলাম তারাও গতকালকে ফোন দিয়ে বলল যে- ভাই আমরা আর কন্টিনিউ করতে পারছি না। একই সঙ্গে ওই ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে থাকলে হয়তো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। সরকারি দলে থাকলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ঢাকা পোস্টের কথা হয় চুক্তি বাতিল করা সেই প্রতিষ্ঠান ট্রাভেল নেক্সট বিডির সিইও শাহরিয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি কাফির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি আমাদের ট্রাভেল এজেন্সির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তার সঙ্গে আমাদের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা ব্যক্তিগত আক্রোশের বিষয় জড়িত নেই।
একই সুরে কথা বলেছেন কাফির ফ্ল্যাট মালিক তৃষা আক্তার। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, তাকে বাসা ছাড়ার কোনো নির্দেশ বা নোটিশ দেওয়া হয়নি। মূলত আমাদের বিল্ডিংয়ে কোনো ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়ার নিয়ম নেই। বিল্ডিংটা তো কারো একার সম্পত্তি নয়। আমরা সবাই ফ্ল্যাট মালিক। তবুও নিয়মের বাইরে গিয়ে আমি কাফিকে বাসা ভাড়া দিয়েছিলাম। কারণ তার কন্টেন্ট আমরা দেখি এবং পরিবারের সদস্যদের মতো হয়ে গেছেন। কিন্তু হঠাৎ তিনি রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ায় বিল্ডিংয়ের অন্যান্য মালিকরা আমাকে জানায়- এখন সে একটা রাজনৈতিক দলের নেতা। তার বাসায় সব সময় লোকজনের সমাগম এবং আসা যাওয়া থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। আমরা যারা পরিবার নিয়ে এখানে বসবাস করি তাদের জন্য এই বিষয়টা একটু কষ্টকর, তাই সে অন্য কোথাও চলে গেলে ভালো হয়। তবে এ বিষয়ে বিল্ডিং এর অন্য কোনো মালিক তার সঙ্গে কথা বলেনি। তাকে বাসা ছাড়তেই হবে এমন কোনো কথাও আমি বলিনি। কিন্তু কাফি কেন যে ভিডিওতে এমন অভিযোগ করল সেটা বুঝতেছি না। তবে আমি কাফির সঙ্গে এ বিষয়ে নিরিবিলি সময় নিয়ে কথা বলব।
উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন নুরুজ্জামান কাফি।
এসএম আলমাস/আরকে
