ভারী বর্ষণ আর মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণার কংস, সোমেশ্বরী ও মগরা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৯ এপ্রিল) কংস নদীর পানি জারিয়া ঝাঞ্জাইল পয়েন্টে ৮৭ সেন্টিমিটার, কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার এবং নেত্রকোণা পয়েন্টে মগরা নদীর পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মেঘালয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং দেশের ভেতরেও টানা বৃষ্টির কারণে সবগুলো নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি নদী প্রাক মৌসুমী বিপৎসীমা ছাড়িয়ে গেলেও জেলার বাকি নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমা ছাড়ায়নি। তবে বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাউবোর এই নির্বাহী প্রকৌশলী।

তিনি আরও বলেন, সব নদীর পানিই বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে কংস সোমেশ্বরী ও মগরা নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে বইছে। আমরা সাধারণত বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার থেকে ১ মিটার উপর পর্যন্ত পানি প্রবাহিত হলে বন্যা পরিস্থিতি হিসেবে গণ্য করি। এবং বিপৎসীমার এক মিটারের উপরে পানি প্রবাহিত হলে অতি বন্যা গণ্য করে থাকি।
কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখন পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, তবে বন্যা পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। পানিতে ১২৬৫ হেক্টর আবাদি জমি প্লাবিত হয়েছে। পানির চাপে আঙ্গাজোরা বাঁধ ও আহাম্মকখালি বাঁধ ভেঙে গিয়ে পানি প্রবেশ করছে। উপজেলার হাওরবেষ্টিত কলমাকান্দা সদর, বড়খাপন ও পোগলা ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রামে পানির চাপে রয়েছে। এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে সরানোর মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। তবে আমরা পুরোপুরি তৈরি রয়েছি বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য। ইতোমধ্যে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের চাহিদা পাঠিয়েছি।
পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনীম জাহান বলেন, কংস নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবে এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাইনি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য।
চয়ন দেবনাথ মুন্না/এএমকে
