মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গার্ডার সেতু দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় দুই জেলার কয়েক লাখ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে গাংনীর বামন্দী থেকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের প্রাগপুর সড়কে মধুগাড়ি ঘাট এলাকায় মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৭ কোটি ২৯ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৯ টাকা। ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো সেতুটি ব্যবহার উপযোগী হয়নি।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর অংশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হলেও গাংনী অংশে প্রায় ২০০ ফুট সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি অচল পড়ে আছে। ফলে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, সেতুটি চালু হলে দুই উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হতো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের সুবিধা পাওয়া যেত। কিন্তু সংযোগ সড়কের অভাবে প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যাচ্ছে।
দৌলতপুর উপজেলার মধুগাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নদী পার হয়ে গাংনীর বেতবাড়ীয়া গ্রামের মাঠে কাজ করতে যান। আগে মাথাভাঙ্গা নদী পারাপারে নৌকা ব্যবহার করা হলেও সেতু নির্মাণের পর সেই নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সেতু হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় এখন আগের চেয়েও বেশি ভোগান্তি হচ্ছে। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার করতে হচ্ছে।
গাংনীর বামন্দী এলাকার একটি বিক্রয় কোম্পানির প্রতিনিধি নয়ন ইসলাম বলেন, সেতু হওয়ায় ভেবেছিলাম দুর্ভোগ কমবে। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় এখনো সেই কষ্টই পোহাতে হচ্ছে। মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলও ঠেলে পার করতে হচ্ছে। অনেকে ঝুকি নিয়ে ছোট খাটো যানবাহন ওঠানামানোর সময় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সংযোগ সড়কটি হলে আমাদের ভোগান্তি অনেক কমে যেত।

একই অভিযোগ করেছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তেকালা গ্রামের রাজমিস্ত্রি নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজমিস্ত্রির কাজ করছি। আগে নৌকা ছিল, কিন্তু সেতু হওয়ার পর আর নৌকা চলে না। এখন গাংনী এলাকায় কাজে যেতে হলে ৭-৮ মাইল ঘুরে যেতে হয়। তাহলে সেতু নির্মাণ হয়ে মানুষের কি লাভ হল।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কাজটি আটকে আছে। ভূমির মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় দীর্ঘদিনেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ শুরু করা যায়নি। তবে দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গাংনী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান বলেন, মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর সেতুর নির্মাণ কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা যাবে। তখন মানুষের দুর্ভোগ কমে আসবে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অল্প কিছু অংশের সড়ক না থাকায় কোটি টাকার সেতুটি বছরের পর বছর অকেজো পড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মাহাবুল ইসলাম/আরএআর
