বিজ্ঞাপন

কালবৈশাখিতে লণ্ডভণ্ড জয়পুরহাট, ক্ষতিগ্রস্ত বোরো ধান ও ঘরবাড়ি

কালবৈশাখিতে লণ্ডভণ্ড জয়পুরহাট, ক্ষতিগ্রস্ত বোরো ধান ও ঘরবাড়ি

জয়পুরহাটে কালবৈশাখি ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষি খাত, বিদ্যুৎ বিভাগসহ গাছপালা ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বুধবার (৬ মে) দুপুর সোয়া একটার দিকে আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায় আধা ঘণ্টা স্থায়ী হয়।

এই ঝড়ে জেলার আক্কেলপুর, ক্ষেতলাল ও কালাই উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি। এতে ওইসব এলাকায় উঠতি বোরো পাকা ও আধাপাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে এবং শিলাবৃষ্টির আঘাতে অনেক ধানের শীষ ভেঙে গেছে। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের তাণ্ডবে আক্কেলপুর উপজেলায় বহু গাছ উপড়ে পড়ে গেছে এবং ডালপালা ভেঙে সড়কের ওপর পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। সোনামুখী লেঙ্গর পীরের মাজার এলাকায় শতবর্ষী একটি গাছ ভেঙে পড়ায় আক্কেলপুর-বগুড়া সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা গাছটি অপসারণে কাজ করেন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে গাছটি সরানো হয়। এই সময় পর্যন্ত ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। ‎একই সঙ্গে বিপুল সংখ্যক বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ায় আক্কেলপুরের পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকা বাদে পুরো উপজেলাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ‎এছাড়া ক্ষেতলাল ও কালাই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসতঘরের টিনের চালা উড়ে যাওয়া এবং গাছ উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও স্থানীয় সড়কে গাছ পড়ে সাময়িক যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

‎আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ও রায়কালী এলাকার কৃষকরা জানান, ধান কাটার ঠিক আগমুহূর্তে এমন ঝড় এবং একই সঙ্গে শিলাবৃষ্টি তাদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, সারা মৌসুমের কষ্টে ফলানো ধান এক ঝড়ে শেষ হয়ে গেল। এখন কীভাবে ঋণ শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ এ.কে.এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, শিলাবৃষ্টির কারণে ধানের ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। আমরা কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আবু উমাম মো. মাহবুবুল হক বলেন, আকস্মিক ঝড়ে বিদ্যুতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে আক্কেলপুর উপজেলায়। ঝড়ের কারণে রাত ৮টা পর্যন্ত অন্তত ৪৫টি খুঁটি ভেঙে যাওয়ার তথ্য পেয়েছি। তবে এর সংখ্যা আরও বাড়বে এবং অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। আমরা আশা করছি, আগামী দুই দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারব।

চম্পক কুমার/এসএইচএ