বিজ্ঞাপন

দোকান ভাড়া না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, প্রতিবাদে অভয়নগরে বিক্ষোভ

দোকান ভাড়া না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, প্রতিবাদে অভয়নগরে বিক্ষোভ

যশোরের অভয়নগরে সার আমদানি ও রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানকে (৬৭) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকে নওয়াপাড়া বাজারের সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।

নিহত আনিছুর রহমান সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। ব্যবসায়িক কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে বসবাস করছিলেন। তিনি নওয়াপাড়া বাজারের সার আমদানি ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়েন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেড-এর পরিচালক ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের ব্যক্তিগত ম্যানেজার রেজাউল করিম এবং স্যানিটারি মিস্ত্রি আলমগীর কবীর জানান, বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের আগে গুয়াখোলা গ্রামের পীরবাড়ি মাদরাসা সংলগ্ন আনিছ ট্রেড ভ্যালি মার্কেটের সামনে তারা আনিছুর রহমানের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় পীরবাড়ির শাহ মাহমুদের নেতৃত্বে ৫-৬ জন যুবক সেখানে এসে মার্কেটের একটি ঘর ভাড়া দেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে শাহ মাহমুদ ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আনিছুর রহমানের মুখমণ্ডলে আঘাত করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তারা।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নওয়াপাড়া বাজারের দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে ভৈরব নদের ঘাটে কার্গো ও বার্জ থেকে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজও বন্ধ রাখা হয়। পরে বিকেলে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে যশোর-খুলনা মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল হোসেন বলেন, আনিছুর রহমান হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে নওয়াপাড়ার সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।

অভয়নগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আনিছুর রহমানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার মুখের বাম পাশে ও গালে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জড়িত শাহ মো. মাহমুদকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

রেজওয়ান বাপ্পী/এসএইচএ