কুমিল্লার লাকসামে ত্রাণের ব্যাগ খুলে নিম্নমানের পণ্য সামগ্রী পাওয়ায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে সেসব পণ্য বণ্টন না করে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম।
বুধবার (৭ মে) দুপুরে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা পরিষদের মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
জেলা ত্রাণ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বিনামূল্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য বিতরণ করা হয়েছে। যা অসহায়, দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে। উপজেলা ভিত্তিক বিভিন্ন সংখ্যার প্যাকেট সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বুধবার দুপুরে লাকসাম উপজেলা পরিষদের মাসিক মিটিংয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম। এ সময় উপজেলার সকল সরকারি দপ্তরের প্রধানরা তাদের বিভিন্ন চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহমদ উল্লাহ সবুজ তার কাজের বিভিন্ন অগ্রগতির বিষয় উপস্থাপন করতে গিয়ে সভায় জানান লাকসাম উপজেলায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের ১৫০ প্যাকেট ত্রাণ সামগ্রী কেনা হয়েছে। সে তথ্য শুনে সেই কর্মকর্তাকে চেপে ধরেন সংসদ সদস্য আবুল কালাম। তিনি সেসব খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট দেখতে চান। পরে কমকর্তা তার এক সহকারীকে দিয়ে এক প্যাকেট ত্রাণ সামগ্রী আনান। ওই সভাতেই উপস্থিত সকলের সামনে সেসব পণ্য দেখে সবার চোখ ছানাবড়া।
প্যাকেটে ১ লিটার খাঁটি সয়াবিন তেল দেওয়ার কথা থাকলেও তাতে পাওয়া গেল মানহীন পাম ওয়েল। তেলের বোতলের ভেতর সাদা সাদা জেলির মতো কিছু ভাসছে। ১০ কেজি মিনিকেট চাল থাকার তথ্য দিলেও তার বদলে পাওয়া গেল বাজারের মানহীন বড় বড় দানার সাড়ে ৮ কেজি চাল। এছাড়াও মানহীন মোড়কজাত ১ কেজি লবণ, ১ কেজি চিনি এবং ১ কেজি মসুর ডাল। ভালো পণ্যের মধ্যে শুধুমাত্র ২০০ গ্রাম রাঁধুনি গুঁড়া হলুদ, ১০০ গ্রাম গুঁড়া মরিচ এবং ১০০ গ্রাম ধনিয়ার গুঁড়া পাওয়া যায় ফ্রেশ কোম্পানির।
এসব দেখে সংসদ সদস্য আবুল কালাম নির্দেশ দেন বাজার মূল্য হিসেব করতে। পরে সভায় উপস্থিত কয়েকজন হিসাব করে দেখেন প্যাকেটে যা পণ্য দেওয়া হয়েছে তার বাজারমূল্য ১০০-১২০০ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খরচ দেখিয়েছেন প্রতি প্যাকেট ২ হাজার টাকা। এছাড়াও তিনটি পণ্য বাদে সবগুলোই মানহীন। পরে সংসদ সদস্য উপস্থিত সভায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে সেসব পণ্য বণ্টন না করার জন্য নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি যে প্যাকেটটি খোলা হয়েছিল সেটি ত্রাণ মন্ত্রীকে নিয়ে দেখানোর জন্য নিজের গাড়িতে তুলে নেন।
এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহমদ উল্লাহ সবুজ বলেন, এসব পণ্য আমরা কিনিনি। আমাদেরকে জেলা ত্রাণ কার্যালয় থেকে পাঠানো হয়েছে। আমরাও খুলে দেখিনি।
এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আবেদ আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। আমরা প্যাকেটগুলো ফিরিয়ে এনে নতুন করে প্যাকেট পাঠাবো সেখানে।
আরিফ আজগর/আরএআর
