কুমিল্লার তিতাসে প্রতিপক্ষকে করা গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া (৪৫) নামে এক হত্যা মামলার আসামি। গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) তিনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।
সোমবার (১১ মে) রাতে তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া মানিককান্দি এলাকার মৃত ধনু মিয়ার ছেলে। তিনি ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম মোল্লা হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। ওই মামলায় পাঁচ মাস কারাভোগের পর গত বৃহস্পতিবার জামিনে বের হন তিনি।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে তিতাস থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুল হক ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম মোল্লা এবং লতিফ ভূঁইয়ার পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলায় পাঁচ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান আসামি আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া।
সোমবার রাতে তিনি মানিককান্দি এলাকার ফজলু মোল্লার ছেলে ও যুবলীগ নেতা জহিরুলের চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর মোল্লাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে স্থানীয় জনতা লতিফকে আটক করে গণপিটুনি দেয়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধ্যরাতে মারা যান লতিফ ভূঁইয়া।
ওসি মো. মমিনুল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লতিফকে উদ্ধার করে। তিনি পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার কাছ থেকে একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরিফ আজগর/আরএআর
