জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে স্কুলড্রেস পড়ে মসজিদে টিকটক করার ঘটনায় দেওয়ানগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী সিনথিয়া আক্তার শান্তাকে বিদ্যালয় থেকে দেওয়া বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেনের নির্দেশে ওই শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেন বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মশিহুর রহমান।
এর আগে, সোমবার দেওয়ানগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিক্ষার্থীকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করেছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। শিক্ষার্থীর বহিষ্কারের সংবাদটি ঢাকা পোস্টে প্রকাশ করা হয়। সংবাদটি দ্রত ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ বিদ্যালয়ের সিন্ধান্ত সঠিক বললেও অনেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন। এমনকি এর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও মন্তব্য করেছেন। পরে মঙ্গলবার সঠিক বিধিমালা না মানায় ও বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর মায়ের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদনের পর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন ইউএনও। নির্দেশনা পেয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেন।
সিনথিয়ার মা রত্না বেগম বলেন, আমার মেয়ে না বুঝেই কাজটি করেছে। এই কাজের জন্য তাকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা ভেবেছিলাম আমার মেয়ের ভবিষ্যৎটা শেষ হয়ে গেল। কিন্তু আপনারা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করে সুষ্ঠু বিচার পাইয়ে দিয়েছেন। ধন্যবাদ জানাই ঢাকা পোস্টকে।
বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মশিহুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়ার আগে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে এমন ভুল হয়েছে। তবে ছাড়পত্র দেওয়া ওই শিক্ষার্থীর মায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে ও ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে তার ছাড়পত্রটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, এটা প্রথমে আমি ফেসবুকে দেখেছি। তারপর ঢাকা পোস্টের সাংবাদিকরা যখন আমাকে ফোন করে, তখন আমি বলি, আমাদের এখনো কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। পরে আমরা যখন অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখি ওই শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক বিধিমালা মানা হয়নি। পরে শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
বাঁধন হোসেন/এএমকে
