নীলফামারীতে গত এক বছরে ৮১১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে ৭৯৯টি নারী নির্যাতন ও ১২টি শিশু নির্যাতন ঘটনা রয়েছে, এসব ঘটনায় মামলা হয় মাত্র ৯৯টি।
মঙ্গলবার (১২মে) দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে জেন্ডার সমতা ও বৈষম্য নিরসনে নাগরিক সম্পৃক্ততা ফেসিং প্রকল্পের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত পরামর্শ বিষয়ক এক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। ডেমক্রেসিওয়াচের সহযোগিতায় এটির আয়োজন করেন উপজেলা নাগরিক প্লাটফর্ম।
সভায় জানানো আরও হয়, সহিংসতার মধ্যে শারীরীক নির্যাতন ২২২টি, ভয়ভীতি ১১০টি, গৃহ নির্যাতন ৯৫টি, জমি জমা-সংক্রান্ত ৭৫টি, আর্থিক ৫৪টি, যৌতুক ৫০টি, ধর্ষণচেষ্টা ২৮টি, চুরি ছিনতাই ২৩টি, অপহরণ ১৯টি, অনলাইন হয়রানি ১৬টি, ধর্ষণ ৮টি, ইভটিজিং ৬টি এবং অন্যান্য ৬টি।
ডেমক্রেসিওয়াচের আউটরিচ কো-অর্ডিনেটর আব্দুস সেলিম বলেন, থানা, আদালত, মহিলা বিষয়ক কার্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ, নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও স্থানীয় পত্রিকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করি। এরচেয়ে বেশি নির্যাতনের ঘটনা রয়েছে যেগুলো আমরা সংগ্রহ করতে পারিনি। নীলফামারী সদর উপজেলার মধ্যে নির্যাতনের দিক থেকে টুপামারী, গোড়গ্রাম, সংগলশী ও সোনারায় ইউনিয়নকে আমরা ঝুঁকিপুর্ণ ইউনিয়ন হিসেবে চিহিৃত করেছি।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক প্রতিরোধের অভাব, সমাজ কাঠামোয় নারীর দুর্বল অবস্থান, আইনের প্রয়োগিক দুর্বলতা, বিলম্বিত বিচার প্রক্রিয়া ও মামলার জট, রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তিক সামাজিক অবস্থান ও মান সম্মানের ভয়ে অনেক ঘটনা গোপন করার কারণে নির্যাতনের ঘটনা বেড়েই চলছে।
সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন সৃষ্টি, আইনের কঠোর প্রয়োগ, বাল্য বিবাহ রোধ, শিক্ষার হার বাড়ানোসহ পরিবার থেকে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে গুরত্বারোপ করতে হবে। ফেসিং প্রকল্প জেলার চারটি উপজেলায় কাজ করছে।
এতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুবাশ্বিরা আয়াতুল্লাহ, সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিল্লুর রহমান, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন, সাংবাদিক নুর আলম, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান দৌলত জাহান ছবি, অ্যাডভোকেট আলপনা রায়, ডেমক্রেসিওয়াচ’র নির্বাহী পরিচালক ওয়াজেদ ফিরোজ। এতে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন ডেমক্রেসিওয়াচের আউটরিচ কো-অর্ডিনেটর আব্দুস সেলিম প্রমুখ।
শাহজাহান ইসলাম লেলিন/এএমকে
