টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ফাতিহা নামে ৩৪ দিনের এক শিশুকে নিয়মিত টিকা প্রদানের পরিবর্তন দেওয়া হয়েছে জলাতঙ্কের র্যাবিক্স (কুকুরে কামড়ানো) ভ্যাকসিন। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই কক্ষে স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম এ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেন।
তবে, এ ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম নুরুর। তিনি না দিয়ে পিআরএলে থাকা কাইয়ুমকে ডেকে এনে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করান স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
শিশুটির পরিবার জানায়, ৩৪ দিনের শিশু ফাতিহাকে নিয়মিত টিকা দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন শিশুটির মা মৌ। সেখানে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম নুরুর। কিন্তু তিনি উপস্থিত না থেকে পিআরএলে থাকা স্বাস্থ্য পরিদর্শক কাইয়ুমকে ডেকে আনেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ।
এসময় স্বাস্থ্য পরিদর্শক কাইয়ুম শিশুটিকে দুই ডোজ কুকুরের র্যাবিক্স ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেন। পরে পরিবারের লোকজন এর প্রতিবাদ করলে তাদের সাথেও খারাপ ব্যবহার করেন কাইয়ুম। শিশুটি ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে দায়ী করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন শিশুটির পরিবার।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম বলেন, ভুলবসত এমনটি হয়েছে। এজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। অন্যদিকে নিয়মিত টিকা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা নুরুল ইসলাম এ বিষয়টির দায় এড়িয়ে নানা অজুহাতে ঘটনার কয়েক ঘণ্টাপর হাসপাতালে থেকে চলে যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ বলেন, নিজের ভুলের কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে। আমাদের আরও সতর্ক হওয়া দরকার ছিল। তবে, এই ভ্যাকসিনে শিশুটির কোনো সমস্যা হবে না। তারপরও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে।
আরিফুল ইসলাম/এসএইচএ
