ফরিদপুরের নগরকান্দায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বড় ভাই ছলেমান বিশ্বাসের (৫৫) বাম হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছোট ভাই আমির আলীর স্ত্রী প্রেমা বেগম (৪২) ও মেয়ে শম্পা আক্তারকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তারা দুজনই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে ছলেমানের স্ত্রী রাবিয়া বেগম (৪৮) বাদী হয়ে আমির আলী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে নগরকান্দা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার মূল অভিযুক্ত ছোট ভাই আমির আলী বিশ্বাস ও তার ছেলে মুরছালিন বিশ্বাস (২৪) এখনও পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে পৈতৃক ভোগদখলীয় জমিতে নেপিয়ার ঘাস রোপণ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ছোট ভাইয়ের মেয়ে শম্পা আক্তারের নির্দেশে আমির আলী হাতে থাকা ধারালো রামদা দিয়ে ছলেমান বিশ্বাসকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ দেন। আত্মরক্ষার্থে ছলেমান হাত বাড়ালে রামদার কোপে তার বাম হাতের কবজি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এজাহারে আরও বলা হয়, পরে আমির আলীর ছেলে মুরছালিন লোহার শাবল দিয়ে ছলেমানের মাথায় আঘাত করেন এবং অন্য আসামিরা লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করেন।
আহত ছলেমান বিশ্বাসকে প্রথমে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
ফুলসুতি ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জামাল মিয়া জানান, ছলেমান বর্তমানে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং বিচ্ছিন্ন অংশ জোড়া লাগানোর সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল সামদানি আজাদ বলেন, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
জহির হোসেন/এসএইচএ
