বিজ্ঞাপন

বাঁধ ভেঙে পানির চাপ বৃদ্ধি

পাহাড়ি ঢলে হালুয়াঘাটে অন্তত ২০ গ্রাম প্লাবিত

পাহাড়ি ঢলে হালুয়াঘাটে অন্তত ২০ গ্রাম প্লাবিত

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ও ভূবনকুড়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) সকালে ভূবনকুড়া ইউনিয়নের মাজরাকুড়া এলাকায় মেনংছড়া নদীর বাঁধ এবং গাজীরভিটা ইউনিয়নের মধ্য বোয়ালমারা এলাকায় বুড়াঘাট নদীর বাঁধ ভেঙে গেলে আশপাশের এলাকায় দ্রুত পানি ঢুকে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে মঙ্গলবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। অতিরিক্ত পানির চাপে একপর্যায়ে বাঁধ দুটি ভেঙে যায় এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

পানিতে তলিয়ে যাওয়া গ্রামের মধ্যে রয়েছে মাজরাকুড়া, কুমারগাতী, আচকীপাড়া, তেলীখালী, কড়ইতলী, মহিষলেটি, গোবরাকুড়া, কালিয়ানিকান্দা, মনিকুড়া, রাংরাপাড়া, বুড়াঘাট, বোয়ালমারা, ডুমনীকুড়া, কাতলমারী, সূর্যপুর, সুমনিয়াপাড়া ও মহাজনীকান্দাসহ অন্তত ২০টি গ্রাম। এসব এলাকায় ঘরবাড়ি, পাকা বোরো ধান, সবজিখেত ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক এলাকায় বাড়িঘরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে আছে। নিচু এলাকার মানুষ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। মাঠজুড়ে কাটা না হওয়া বোরো ধান পানির নিচে ডুবে আছে।

বোয়ালমারা গ্রামের কৃষক আব্দুস ছালাম বলেন, কয়েকদিন আগেই ঢলে বাদাম নষ্ট হয়েছে। এবার ধানও পানির নিচে। স্থায়ী বাঁধ না হলে কৃষকরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৭০ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) রাতের ভারী বর্ষণের কারণে দুটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। দুটি কাঁচা রাস্তা ভেঙে গেছে। আমরা সরেজমিন ঘুরে দেখেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য এখনো পাইনি। তবে অধিকাংশ বাড়ি থেকে পানি নেমে যাচ্ছে এবং সন্ধ্যার মধ্যে পুরোপুরি নেমে যেতে পারে।

সাখাওয়াত সুমন/এএমকে

বিজ্ঞাপন