বিজ্ঞাপন

খামারির ৯ বছরের যত্নের ফসল, ১৪শ কেজির ‘বাদশা’

খামারির ৯ বছরের যত্নের ফসল, ১৪শ কেজির ‘বাদশা’

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বিশাল আকৃতির ষাঁড় গরু ‘বাদশা’। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে সন্তানের মতো লালন-পালন করেছেন খামারি কামরুল আহসান পলাশ। 

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের কেদারপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক কামরুল আহসান পলাশ শখ করে ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় ‘বাদশা’কে লালন-পালন করেন। বর্তমানে বাদশার ওজন প্রায় ১ হাজার ৪০০ কেজি, অর্থাৎ প্রায় ৩৫ মণ। উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ফুট। 

মঙ্গলবার (১২ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল আকৃতির ‘বাদশা’কে দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন। দৈহিক গঠন ও সৌন্দর্যে গরুটি সহজেই সবার নজর কাড়ছে।

খামারি কামরুল আহসান পলাশ বলেন, কোনো ধরনের মোটাতাজাকরণ ওষুধ বা হরমোন ব্যবহার ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটিকে বড় করা হয়েছে। প্রতিদিন ‘বাদশা’র খাবারের পেছনে ব্যয় হয় প্রায় ৮০০ টাকা। তাকে খাওয়ানো হয় ভুসি, খড় ও তাজা ঘাস। নিয়মিত গোসল করানোর পাশাপাশি গরমে স্বস্তি দিতে গোয়ালঘরে রাখা হয়েছে বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থাও।

তিনি বলেন, ৯ বছর ধরে নিজের সন্তানের মতো করে ষাঁড় গরুটি লালন-পালন করেছি। আদর করে ডাকি ‘বাদশা’। গত বছরও কোরবানির হাটে তুলেছিলাম। তখন সাড়ে ১০ লাখ টাকা দাম উঠেছিল। কিন্তু খরচের তুলনায় দাম কম হওয়ায় বিক্রি করিনি। এবার বাধ্য হয়েই বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। তবে বরিশালের কেউ ক্রয় করলে আলোচনা সাপেক্ষে দামে ছাড় দেওয়া হবে। ষাঁড়টি ঢাকার কোরবানির হাটে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা দুয়ারী বলেন, গরুটি এত বড় যে একা সামলানো সম্ভব নয়। গোয়ালঘর থেকে বের করতে ৮ থেকে ১০ জন মানুষের সহায়তা লাগে। বাদশাকে এক নজর দেখতে প্রতিদিনই উৎসুক মানুষ ভিড় করছেন।

বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, ষাঁড়টির বিষয়ে আমরা সবসময় খোঁজ খবর রাখি । গত বছরও মালিক বিক্রির জন্য ঢাকার কোরবানির হাটে নিয়ে গেছিলেন। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে লালন-পালন করা হয়েছে বিশালাকৃতির ষাঁড় গরুটি। ফ্রিজিয়ান ক্রস জাতের কালো রংয়ের ষাঁড়টি এবার বিক্রি হবে বলে আশা রাখি। আমরাও আমাদের ফেসবুক পেইজে ছবিসহ পোস্ট করে ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। এটাই উপজেলা ও আশপাশ এলাকার সবচেয়ে বড় ষাঁড়।

আরকে