কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মানবপাচার, মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ অর্থপাচার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীতে অর্থ জোগানের অভিযোগে মোহাম্মদ তোহা নামে এক রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করেছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এ সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মুদ্রা, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
শুক্রবার বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে এপিবিএন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এপিবিএন জানায়, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লিংক রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আটক মোহাম্মদ তোহা (৪৫) উখিয়ার ক্যাম্প-১ ইস্টের ডি-৫ ব্লকের বাসিন্দা।
তারা আরও জানায়, তার কাছ থেকে ৫৩ হাজার টাকা, ৩ হাজার ২৫০ সৌদি রিয়াল, ৩ হাজার ৩০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং ৬০০ মার্কিন ডলার উদ্ধার করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জাতীয়তা সনদ, অনলাইন জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, জন্মসনদ, ব্যাংকের চেকবইয়ের পাতা ও ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বলেন, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ তোহাকে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে দেশি-বিদেশি মুদ্রা, সন্দেহজনক পরিচয়পত্র ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে মানবপাচার, মানিলন্ডারিং এবং ভুয়া পরিচয়ে কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে সক্রিয় অপরাধচক্র, মানবপাচারকারী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর অর্থদাতাদের বিরুদ্ধে এপিবিএনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক ব্যক্তির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, তোহা ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এলাকার ঠিকানায় বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেছিলেন। তিনি নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক মানবপাচার, অবৈধ অর্থ লেনদেন ও ভুয়া পাসপোর্ট তৈরির সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সক্রিয় সদস্য। পাশাপাশি সশস্ত্র রোহিঙ্গা সংগঠনের অর্থ জোগানের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় উখিয়া থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি(এ)/২৫ডি ধারাসহ দণ্ডবিধির ৪১৯, ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ইফতিয়াজ নুর নিশান/জেআই
