নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পাগলা কুকুরের কামড়ে টানা দুই দিনে অনেকেই আহত হয়েছেন। উপজেলার বগাদী, রামচন্দ্রদী ও জালাকান্দি গ্রামে হঠাৎ কুকুরের আক্রমণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় তরুণ ও যুবকদের লাঠিসোঁটা হাতে পাহারা দিতেও দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকাল থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এসব এলাকায় কুকুরটির তাণ্ডব চলায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দুই দিন ধরে কুকুরটির সামনে যিনিই পড়েছেন, তাকেই তাড়া করে কামড় দিয়েছে। এতে গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে বগাদী গ্রামের পাঁচ বছরের শিশু জুবায়েরকে কামড়ায় কুকুরটি। পরে সেটি দ্রুত পাশের রামচন্দ্রদী ও জালাকান্দি গ্রামে ঢুকে পড়ে। পথে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আক্রমণ করেছে। একপর্যায়ে আতঙ্কে মানুষ ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দেয়।
আহতদের মধ্যে জুবায়ের (৫), জান্নাতুল ফেরদৌস (৩২), কুলসুম (৪০), ডলি (৪৫), রায়হান (২০), জাহাঙ্গীর (৪০), ওমর আলী (৭০), সাগরিকা (৩০), ফাতেমা (৩৫) ও হাওয়ার (৩০) নাম জানা গেছে। এ ছাড়া, আরও অনেকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

বগাদী গ্রামের বাসিন্দা আবদুল্লাহ বলেন, হঠাৎ দেখি কুকুরটি ছোটাছুটি করছে, আর যাকে পাচ্ছে তাকেই কামড়াচ্ছে। মানুষ দৌড়ে ঘরে ঢুকে পড়ে। শিশুরা ভয়ে কাঁদছিল।
রামচন্দ্রদী গ্রামের বাসিন্দা বাবুল বলেন, আমার সন্তানদের বাইরে যেতে দিচ্ছি না। গ্রামের সবাই আতঙ্কে আছে।
জালাকান্দি গ্রামের মোশাররফ মাস্টার বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে কুকুরটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেটি খুব আক্রমণাত্মক ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কুকুরটিকে ধরতে বা মারতে ফতেহপুর এলাকায় যুবকরা দল বেঁধে লাঠি হাতে মাঠে নামলেও এখনো সেটিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। রামচন্দ্রদী ও ফতেহপুর এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।
আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকার জাতীয় জলাতঙ্ক প্রতিরোধ ও গবেষণা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকা দেওয়া হয়েছে।
আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শিমুল বলেন, দুই দিনে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক রোগী হাসপাতালে এসেছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতাউর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশনার কারণে নির্বিচারে কুকুর নিধন করা যায় না। তবে কুকুরের টিকাদান ও জনসচেতনতা কার্যক্রম চলছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন হাসপাতাল থেকে দেওয়া হচ্ছে। আমরা আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।
মো. মীমরাজ হোসেন/এএমকে
