নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া বলেছেন, গত ঈদুল ফিতরে দৌলতদিয়া ৩ নং ফেরিঘাটে যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে তা সঠিক তদন্ত করে আমরা এর কারণ উদ্ঘাটনের কাজ করছি। আগামীতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে আজকের ঘাট পরিদর্শন করা। ভবিষ্যতে আমাদের যাত্রীসেবা যেভাবে আরও ভালো করা যায় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ও লঞ্চ ঘাট পরিদর্শন এসে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
নৌপরিবহন সচিব বলেন, আইন ও নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরিতে যানবাহন ও যাত্রী উঠবে। নির্দেশনা অমান্য করলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সকল যানবাহনকে নির্দেশনা মেনেই ফেরিতে উঠতে হবে। যেন আসন্ন ঈদে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে সে বিষয়ে সকলকে অবগত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্নে যা যা করার প্রয়োজন সেই নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের নিয়ে একটি আলাদা সভা হয়েছে। এছাড়াও নৌ মন্ত্রণালয়, সড়ক মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়েও আলাদা আলাদা সভা হয়েছে। আমরা প্রতিটি মন্ত্রণালয় থেকে যার যার যে দায়িত্ব সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। আমাদের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে নৌ পথে চলাচলের সময় যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত না হয় এবং কোরবানির পশু যে নির্ধারিত হাটে নামার কথা সেই হাটেই যেন নামে, পথে যেন কেউ বাধাগ্রস্ত না করে এ বিষয়ে আমাদের একটা প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিটি ট্রলার বা নৌকায় সামনে লেখা থাকতে হবে কোন হাটে গিয়ে পশু নামবে, যেন পথে কেউ বাধাগ্রস্ত না করতে পারে। এছাড়া ঘাটে আসা গরুবাহী ট্রাকসহ যে কোনো যানবাহন পারাপারে আমরা সকল ধরনের সুবিধা দেব।
নদী ভাঙনের বিষয়ে জাকারিয়া বলেন, নদী থাকলে ভাঙন থাকবেই, এ বিষয়টা আমাদের প্রতিনিয়ত মোকাবেলা করতে হয়। ঘাটেও ভাঙন হবে, নদীও ভাঙন হবে। এগুলো স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক জিনিস। ভাঙন যেখানেই হোক ভাঙনের সাথে আমাদের খাপ খাইয়ে কীভাবে সেটা মিনিমাইজ করা যায় সেটা আমরা দেখবো। নদী যেখানে ভাঙবে সেখানে কীভাবে কি করা যায় সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
এর আগে নৌ পরিবহন সচিব দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট, ফেরিঘাটের পন্টুন, এ্যাপ্রোচ সড়কসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং যেখানে ত্রুটি আছে সেটা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
এ সময় বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন, বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. আশিকুর রহমান,পরিচালক ও কারিগরি ক্যাপ্টেন হাসেমুর রহমান চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএ’র সদস্য ও (অর্থ অবসরপ্রাপ্ত নেভি) মোয়াজ্জেম হোসেন, সদস্য ও প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার, গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান, বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো.সালাহ উদ্দিন, দৌলতদিয়া নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/আরএআর
