বিজ্ঞাপন

ইতিহাসের সাক্ষী জমিদার বাড়ি এখন মাদকসেবীদের আখড়া

ইতিহাসের সাক্ষী জমিদার বাড়ি এখন মাদকসেবীদের আখড়া

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন কড়ৈতলি জমিদার বাড়ি  হারিয়ে যেতে বসেছে। একসময় এলাকার ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই জমিদার বাড়িটি এখন অযত্ন আর অবহেলায় ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

স্থানীয়দের জানান, বহু বছর আগে নির্মিত এই জমিদার বাড়িটি ছিল জমিদারি শাসনের স্মৃতিবাহী একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। বাড়িটির কারুকার্য, পুরোনো স্থাপত্যশৈলী এবং বিশাল কাঠামো একসময় দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংস্কারের অভাবে ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির দেয়ালে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় ছাদের অংশ ধসে পড়েছে। চারপাশে ঝোপঝাড় আর আগাছা জন্মে পুরো এলাকা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় জমিদার বাড়িটি এখন মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর সেখানে বখাটে ও মাদকাসক্ত যুবকদের আনাগোনা বাড়ে বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। এতে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং যুব সমাজ ধীরে ধীরে বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সেলিম জিতু জানান, ঐতিহ্যবাহী এই জমিদার বাড়িটি সংরক্ষণে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এটি শুধু একটি পুরোনো ভবন নয়, আমাদের এলাকার ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ। অবহেলার কারণে এটি ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে এখানে মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত। দ্রুত সংস্কার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা দরকার।

ওই এলাকার জসিম উদ্দিন জানান, দ্রুত জমিদার বাড়িটি সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে সেখানে নিয়মিত নজরদারি বাড়িয়ে মাদকসেবীদের আড্ডা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তার মতে, ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা গেলে ইতিহাস সংরক্ষণের পাশাপাশি যুব সমাজও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, কড়ৈতলি জমিদার বাড়ির বর্তমান পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস দেন। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

আনোয়ারুল হক/এসএইচএ