বিজ্ঞাপন

মাদকাসক্ত ভাতিজার হাতে ফুফু খুন, মা-চাচি আশঙ্কাজনক

মাদকাসক্ত ভাতিজার হাতে ফুফু খুন, মা-চাচি আশঙ্কাজনক

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে সোহেল (৩০) নামে মাদকাসক্ত ভাতিজার হাতে খুন হয়েছেন ফুফু জহুরা বেগম (৬০)। একই সাথে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ওই যুবকের মা আনোয়ারা বেগম (৫২) ও চাচি জুলেখা বেগমকে (৪৬)।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলছড়ি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা। সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাজেতেলকুপি (চর নিশ্চিন্তপুর) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত যুবক সোহেল ওই গ্রামের মৃত সামু মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক।

নিহত জহুরা বেগম ওই এলাকার মৃত কাবেল শেখের মেয়ে। দীর্ঘদিন আগে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। এরপর থেকে তিনি বাবার বাড়িতেই থাকেন। এতিম ভাতিজাদের মানুষ করতেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। এছাড়া গুরুতর আহত জুলেখা ছমের মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে ঘুম থেকে উঠেই বঁটি জাতীয় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ওই যুবক প্রথমে তার মা আনোয়ারাকে আঘাত করেন। এ সময় মা চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে চাচি জুলেখাকে পেয়ে তার শরীরে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। পরে ফুফু জহুরা আসলে তারও পেটে আঘাত করেন এবং কোপে দিয়ে এক হাত কেটে ফেলেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। 

ঘটনায় গুরুতর আহত আনোয়ারা বেগম ও জুলেখা বেগমকে স্বজন ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতলে নেয়। কিন্তু তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে রংপুরে পাঠান।

অন্যদিকে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অভিযুক্ত যুবককে আটকে রেখে ফুলছড়ি থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

নিহতের অপর ভাইয়ের ছেলে ফুল মিয়া জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠেই বঁটি দিয়ে ফুফুকে খুন করে সোহেল। প্রথমে ওর মায়ের মাথায় কোপ দেয়। পরে চাচিকে পেয়ে তাকে এলোপাতাড়িভাবে কোপ দিয়ে নাক-মুখ, হাঁটুসহ সারা শরীর রক্তাক্ত করে। পরে ফুফুকে পেয়ে তার একটি হাত প্রায় কেটে ফেলে এবং পেটেও কোপ দেয়। এতে ফুফু ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

তিনি বলেন, আমি আহতদেরকে নিয়ে রংপুরে আছি। আমরা এখনো জানি না কেন এমন করলো সোহেল। ২-৩ দিন থেকে ও পাগলামো করছিল।

ফুলছড়ি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা বলেন, স্থানীয়রা জানিয়েছেন অভিযুক্ত যুবক নেশা করে। স্থানীয়দের খবরে আমরা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসতেছি, নৌকায় পথিমধ্যে আছি। এর বেশি কিছু জানা যায়নি। থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে  জানা যাবে।

মাসুম বিল্লাহ/আরএআর

বিজ্ঞাপন