গাইবান্ধা জেলায় সরকারিভাবে বোরো ধান ক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধনের দিনেই তালিকায় পাওয়া গেল ভুয়া কৃষক। দৈব্য চয়নের মাধ্যমে ফোন করে এই ভুয়া কৃষকের সন্ধান পায় জেলা প্রশাসক।
রোববার (২৪ মে) সকালে শহরের খানকাশরীফ এলাকার খাদ্য গুদামে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা।
এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষকদের তালিকা যাচাই করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা সামনে আসে। জেলা প্রশাসক তালিকা থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের ক্ষুদ্র কৃষাণী ফরিদা পারভিনের মোবাইল নম্বরে ফোন করেন। তবে ফোনের ওপাশ থেকে জানানো হয়, নম্বরটি তার নয় এবং তালিকাভুক্ত ওই কৃষককেও তিনি চেনেন না। এতে উপস্থিত সবাই বিস্মিত হন এবং তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ১৮৭ জন কৃষকের কাছ থেকে মোট ৯ হাজার ৫৬৩ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি ধানের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৬ টাকা এবং একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন পর্যন্ত ধান দিতে পারবেন।
এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন, সাঘাটা ১ হাজার ৫১, সাদুল্লাপুর ১ হাজার ১৪৬, সুন্দরগঞ্জ ১ হাজার ৯৬৫, গোবিন্দগঞ্জ ২ হাজার ৩৭৬, পলাশবাড়ী ৯২১ এবং ফুলছড়ি উপজেলায় ৫৪০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে।
এদিকে, বিগত বছরগুলোতেও সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু চক্র ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কৃষকদের ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও মিথ্যা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তালিকা প্রস্তুত করার অভিযোগও রয়েছে। ওইসব ভুয়া তালিকার মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীরা গুদামে ধান সরবরাহ করে অর্থ উত্তোলন করে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেয়। এবারও প্রথম দিনেই একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সামনে এলো প্রশাসনের সম্মুখে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী মহল ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে লাভবান হন। আর বঞ্চিত হন প্রকৃত কৃষক।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিজানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা তালিকা করি না। এসব তালিকা করে কৃষি বিভাগ। তারপরেও যেহেতু ভুয়া বিষয়টি সামনে এসেছে। পুরো জেলায় তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃতদের থেকে ধান নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মাসুম বিল্লাহ /এসএইচএ
