জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় কোরবানির পশুর হাটে মহিষের গুঁতোয় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
নিহতরা হলেন, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর মাদার গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে মজিবুর রহমান এবং রাজিবপুর উপজেলার জাউনিয়ার কড়াইডাঙ্গীপাড়া গ্রামের রুহুল আমিন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৪ মে) স্থানীয় আকন্দপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তি বিক্রির উদ্দেশে একাধিক মহিষ নিয়ে সানন্দবাড়ী হাটে আসেন। হাটে আসার পর তার একটি মহিষ হঠাৎ বিগড়ে গিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। মহিষটি হাটের মধ্যে ছোটাছুটি করে এবং হাটের মানুষদের আক্রমণ করে। মহিষের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে হাটের মানুষ ছোটাছুটি শুরু করেন। সে সময় হাটে আসা রাজিবপুরের জাউনিয়ার কড়াইডাঙ্গীপাড়া গ্রামের রুহল আমীনসহ কয়েক জনকে আক্রমণ করে। এতে গুরুতর আহত হন তারা।
পরে রুহুল আমীনকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে পথে তার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত মজিবুর রহমানকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে সোমবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুজিবুর রহমানের মৃত্যু হয়।
নিহত মুজিবুর রহমানের স্ত্রী বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও কোরবানি দেওয়ার কথা ছিল আমাদের। সেই জন্য আমার স্বামী হাটে গিয়েছিল গরু কিনতে। কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেল। এখানে কপালকে দোষ দেওয়া ছাড়া অন্য কাউকে দোষ দেওয়ার নেই।
নিহত রুহুল আমীনের ছেলে বলেন, এবার আমাদের ঈদের আনন্দ শেষ হয়ে গেল। ঈদ পালনের জন্য আমার বাবা কোরবানি জন্য হাটে গিয়েছিলেন কিন্তু সেটা আর হলো না। কাকে আর দোষ দেব। এটা আমাদের ভাগ্যের দোষ।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, মহিষের আক্রমণে দুইজন মারা গেছেন। এ ঘটনায় এখনও কেউ কোনো প্রকার লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
বাঁধন হোসেন/এসএইচএ
