গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কুড়িগ্রামের উলিপুরের দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে কোরবানির পশুর হাট সরানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) হাটবারে স্কুল মাঠে পশুর হাট বসেনি। হাটটি বাজারের আলী কালি মার্কেটের পাশের মাঠে বসানো হয়েছে। তবে, ওই মাঠে সরকার নির্ধারিত হাসিলের দ্বিগুণ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার সরেজমিন দুর্গাপুর হাটে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। এর আগে, গত শুক্রবারসহ দুটি হাটবার স্কুল মাঠে পশুর হাট বসানো হয়। প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার এবং হাট ইজারাদার আবেদ আলী সরদার যোগসাজসে স্কুল মাঠে পশুর হাট বসানো শুরু করেন।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন, ইজারাদার ও স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরে স্কুল মাঠ থেকে হাট সরিয়ে পাশের আলী কালি মার্কেট সংলগ্ন মাঠে নেওয়া হয়। তবে, হাট স্থানান্তরিত হলেও গরু-ছাগল বিক্রিতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
হাটে গিয়ে দেখা গেছে, হাটে গরু বাবদ এক হাজার টাকা এবং ছাগল বাবদ ৫০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এসময় ইজারাদারের প্রতিনিধিরা গরু ক্রেতা-বিক্রেতাদের উদ্দেশ্যে বলছেন, কেনাইয়ার (ক্রেতার) ৭০০ আর বেচাইয়ার (বিক্রেতার) ৩০০। এসময় বিক্রেতা ও ক্রেতার কাছে এই টাকা আদায় করতেও দেখা গেছে।
আসাদুল নামে এক গরু বিক্রেতা বলেন, ৮০ হাজার টাকায় কালো রঙের দামড়া গরু বিক্রি করেছি। আমার কাছে ৩০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।
আসাদুলের গরুটি কেনেন শরিফ উদ্দিন নামে এক ক্রেতা। তিনি বলেন, হাসিল ৫০০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও হাটে ৭০০ টাকা নিয়েছে। গরু ক্রেতার কাছে ৩০০ টাকা নিয়েছে। আমরা সাধারণ মানুষতো বিবাদে জড়াতে পারি না। বাধ্য হয়ে দিয়ে আসলাম।
হাটে ছাগল বিক্রি করে ছাইফুল ইসলাম নামে এক কৃষক বলেন, ‘১২ হাজার টাকায় খাসি বেচাইলং। আমার কাছত আড়াইশো কেনাইয়ার কাছতও আড়াইশো টাকা খাজনা নিছে।’
এ বিষয়ে হাট ইজারাদার আবেদ আলী সরদার বলেন, প্রশাসন বলায় স্কুল মাঠ থেকে হাট সরানো হয়েছে। তবে হাসিল বেশি আদায়ের বিষয়টি সঠিক নয়। আজ হাট একটু এলোমেলো। দুই একজন এমন করে থাকলে সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে, কেউ এমন অভিযোগ করে থাকলে সেটা মিথ্যা কথা। বেশি নেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম আরিফ বলেন, স্কুল মাঠে হাট বসানোর খবর জানার পরপরই সেটি স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসিল বেশি আদায় করার বিষয়ে ইজারাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেছেন। তারপরও আমি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি।
মমিনুল ইসলাম বাবু/এসএইচএ
