বিজ্ঞাপন

শেষ সময়েও চড়া দামে বেশি বিক্রি হচ্ছে ছোট-মাঝারি গরু

শেষ সময়েও চড়া দামে বেশি বিক্রি হচ্ছে ছোট-মাঝারি গরু

রাত পোহাইলে দেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। শেষ সময়ে রংপুরে পশুর হাটে কেনা-বেচা জমে উঠেছে। বুধবার (২৭ মে) রংপুর নগরীর ক্রেতা-বিক্রেতার জমজমাট সমাগম।

ছোট সাইজের গরু ৭০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। মাঝারি সাইজের গরু সোয়া লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা এবং বড় গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে তিন থেকে ৫ লাখ টাকা। তবে, ছোট সাইজের দেশি গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এ হাটে ভারতীয় গরু চোখে পড়েনি। তবে শংকরসহ বিদেশি বিভিন্ন জাতের পর্যাপ্ত গরু উঠেছে।

প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য মতে, এ বছর রংপুরসহ বিভাগের আট জেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গেছে এখানকার কোরবানির পশু। এবার পশু বিক্রির মাধ্যমে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে যোগ হবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। ফলে এই অঞ্চলে অর্থনীতির চালিকা শক্তি নতুন গতি পাবে।

লালবাগ হাট ঘুরে দেখা যায়, দেশি ও শংকরসহ বিদেশি জাতের পর্যাপ্ত গরু উঠেছে। বিক্রেতারা হাটের দুই পাশের রাস্তাসহ ভূমি অফিসের মাঠে সারি সারি খুঁটিতে গরুগুলো বেঁধে রেখেছেন। জাত ও আকারভেদে সর্বনিম্ন ৭০ হাজার থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত গরু বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এ হাটে দেশি ব্ল্যাক বেঙ্গল, তোতাপুরীসহ বিভিন্ন জাতের ছাগলও উঠেছে। ১৫ হাজার থেকে শুরু করে ৪৫ হাজার পর্যন্ত দাম চাইছেন বিক্রেতারা। যদিও দামাদামির সুযোগ থাকায় ক্রেতারা হাট ঘুরে দাম যাচাই করছেন।

হাটে কথা হয় নগরীর মুলাটোল এলাকার জাহাঙ্গীর কবিরের সাথে। তিনি এক লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছেন। তার মতে ১ লাখ টাকা দামে কেনা যেত, কিন্তু শেষ হাট হওয়ায় দাম বেশি নিয়েছে।

হারাগাছ থেকে আসা ৪টি মাঝারি সাইজের দেশি গরু নিয়ে এসেছেন মেরাজুল ইসলাম। বিকেল চারটার দিকে তিনি দুটি গরু বিক্রি করেছেন আড়াই লাখ টাকায়। অন্য দুটি গরুর দাম নিয়ে ক্রেতার সঙ্গে দরদাম করে চলে যাচ্ছেন। তার আশা এই হাটে তার সব গরুই বিক্রি হবে। তিনি দাবি করেন, গত বছরের চেয়ে এবার তুলনামূলকভাবে দাম কিছুটা কম।

গতকাল একই চিত্র জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ও গজঘণ্টা, পীরগাছার পাওটানা, কাউনিয়ার খানসামা হাটেও গিয়ে দেখা গেছে। উপজেলার বেতগাড়ি হাটে সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল।

লালবাগ হাট থেকে গরু কিনে ফেরার সময়ে সাথে কথা হয় নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার গোলাম কাদেরের। তিনি ঢাকা পোস্ট বলেন, গো-খাদ্যসহ সব খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় এবার বিক্রেতারা দাম কিছুটা বেশি নিচ্ছে। অনেক দামাদামি করে শেষ পর্যন্ত তিনি এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছি। তবে হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায় নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল হাসান জানান, এখন হাটে পাইকাররা নেই। রংপুরসহ আশপাশের উপজেলা থেকে আসা মানুষেরা পছন্দ ও সামর্থের মধ্যে গরু কিনছেন। তবে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদাই বেশি। এ হাটে পর্যাপ্ত দেশি গরু উঠেছে। আশা করছি রাত অবধি কেনা-বেচা চলবে।

এদিকে, হাটে অতিরিক্ত হাসিল (রশিদ লেখা) আদায়ের অভিযোগে ৪ জনকে আটক করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। আটকরা হলেন- মজিবর রহমান (৬৫), হাসান বাবু (১৭), দুলু মিয়া (৫৭) ও মাসুদ রানা (২৩)।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাট ও বাজার এলাকায় সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিকট থেকে নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত হাসিল আদায় করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করেছে।

বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এবার রংপুর বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১৪ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭টি। চাহিদার বিপরীতে রয়েছে ২০ লাখ ২৩ হাজার ৬৭টি। উদ্বৃত্ত পশুর সংখ্যা ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৪১০টি। বিভাগের আট জেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ২১ হাজার খামার রয়েছে। এর মধ্যে শুধু রংপুর জেলাতেই নিবন্ধিত খামারের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার।

সূত্র আরও জানায়, এবারে জেলাভিত্তিক কোরবানির পশুর হিসেবে রংপুরে পশু প্রস্তুত করা হয় ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯১ এর মধ্যে চাহিদা ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৯, গাইবান্ধায় পশু ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯০০, চাহিদা ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০, কুড়িগ্রামে পশু ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৯১৯, চাহিদা ২ লাখ ৬১ হাজার ২৪৬, নীলফামারীতে পশু ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৫০, চাহিদা ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৭৬, লালমনিরহাটে পশু ২ লাখ ৬ হাজার ৪৬২, চাহিদা ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৮৪, দিনাজপুরে পশু ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫২৩, চাহিদা ২ লাখ ৭৩ হাজার ২৬২।

এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ে পশু ৯৫ হাজার ৪৩৬, চাহিদা ৭৮ হাজার ৮৪৩ এবং পঞ্চগড়ে পশু ১ লাখ ৩০ হাজার ৩০৩, চাহিদা ১ লাখ ৩ হাজার ৬৫০ পশু। কোরবানির পশু বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রায় আড়াই লাখ খামারি সাড়ে ৮ লাখের মতো গরু প্রস্তুত করেছেন। এছাড়া ২ লাখের ওপর গৃহস্ত প্রায় ১০ লাখ গরু-খাসি বাজারে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন।

রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল হাই সরকার জানান, রংপুর অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি পশু। এবার কোরবানির ঈদে পশু বিক্রির মাধ্যমে রংপুর বিভাগের অর্থনীতিতে যোগ হবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।

তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রণোদনাসহ বিভিন্ন ভাবে খামারি ও গৃহস্থদের উদ্বুদ্ধ করায় গত বছরের চেয়ে এবার প্রায় ৫ লাখের বেশি গবাদি পশুর সংখ্যা বেড়েছে।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এসএইচএ 

বিজ্ঞাপন