বিজ্ঞাপন

বাড়ির উঠানে বিদেশি আঙুর চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সরোয়ার

বাড়ির উঠানে বিদেশি আঙুর চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সরোয়ার

নিজ বাড়ির উঠানেই পরীক্ষামূলকভাবে আঙুরের বাগান করে সফলতার মুখ দেখেছেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের চরবাগমারা গ্রামের সরোয়ার হোসেন বিশ্বাস। শখের বসে শুরু করা আঙুর চাষ এখন তার জন্য হয়ে উঠেছে সম্ভাবনাময় একটি উদ্যোগ। তার বাগানে বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু আঙুর উৎপাদন হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কম পরিশ্রম ও কম খরচে লাভজনক হওয়ায় আঙুর চাষে আগ্রহী হচ্ছেন অনেকে। আঙুর চাষে বাড়তি কোনো খরচ নেই। জৈব সার প্রয়োগের পাশাপাশি সঠিক পরিচর্যায় একটি গাছে ৪০ থেকে ৫০ বছর ফলন পাওয়া সম্ভব। এছাড়া বছরে একটি গাছে ৩ বার ফল আসে। প্রতিটি গাছে দেড় থেকে ২ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।

জানা যায়, চার বছর আগে ইউটিউব ও কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ দেখে বাড়ির উঠানে ২ শতাংশ জমিতে দেশ বিদেশ থেকে চারা সংগ্রহ করে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি আঙুরের চারা রোপণ করেন সরোয়ার।নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক ছাঁটাই ও জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সফলতা পান তিনি। প্রথম বছর পরীক্ষামূলক একটি গাছ থেকেই পেয়েছেন প্রায় দেড় মণ মিষ্টি আঙ্গুর। এরপরের বছর থেকেই তার আঙুরের ফলন বাড়তে থাকে।বর্তমানে তার বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে বাহারি রঙের পাকা আঙুর। এখন উদ্যোক্তা সরোয়ার হোসেন বিশ্বাস তার সংগ্রহে থাকা ৬টি জাতের পাশাপাশি ভারতের মহারাষ্ট্র থেকে আনা ১২টি জাত সংগ্রহ করে নিজের ৫ বিঘা জমি বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষের জন্য প্রস্তুত করছেন।

সরেজমিনে মিশ্র ফল চাষি কৃষি উদ্যোক্তা সরোয়ার বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়,তার বসতবাড়িতে ঢোকার প্রধান ফটকেই আঙ্গুর গাছের মাচা।বাড়ির আঙিনায় বাঁশের মাচায় থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল, সবুজ, হলুদ রঙের রাশিয়ান মিষ্টি জাতের আঙুর। বাড়ির আঙিনায় রঙিন এসব ফল যেমন দৃষ্টি কাড়ছে পথচারি, দর্শনার্থীদের।

কৃষি উদ্যোক্তা সরোয়ার বিশ্বাস বলেন, আমি যখন কলেজে পড়তাম তখন থেকেই আঙুর বাগান করার প্রতি আমরা লোভ ছিল। পরে শখের বসে রাশিয়া, ইতালিসহ অন্যান্য দেশ থেকে আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে ভালো জাত সংগ্রহ করি।সংগ্রহ করা ওই চারাগুলো দিয়ে বাড়ির আঙিনায় ২ শতাংশ জমির ওপর ৪ বছর আগে পরীক্ষামূলক ভাবে চাষ শুরু করে বাণিজ্যিক সফলতা অর্জন করেছি। আমি তিন বছর ধরে আঙুর হারভেস্ট করছি এবং বিক্রি করছি। চলতি বছরে আমি তিন মণের বেশি আঙুর বিক্রি করেছি। আশা করছি আরও ২ মণের বেশি বিক্রি করতে পারব। দর্শনার্থীরা আমার বাগানে এসে আঙুর কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমার আঙুর খুব মিষ্টি ও মানসম্পন্ন। এসব আঙুরের যে আকার, আকৃতি ও কালার তা বাংলাদেশে আমদানি হয় না। এই আঙুর বাংলাদেশের আনাচে কানাচে যে ভাবে হওয়া শুরু করেছে অবশ্যই বাংলাদেশ বিদেশ থেকে অর্থ দিয়ে আঙুর কিনে আনবে না আমরা আশা করছি। আমি অনুরোধ করবো যার যেটুকু জায়গা আছে সেখানেই আঙুরের চারা রোপণ করেন, যাতে সারা বাংলাদেশেই এই আঙুর চাষটা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে আমার সংগ্রহে ১৩টি জাত আছে, আমি ইতোমধ্যেই ৫ বিঘা জমির ওপর বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করে দিয়েছি।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন, আঙুর চাষ করে কৃষি উদ্যোক্তা সরোয়ার বিশ্বাস সফলতা অর্জন করেছে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে তাকে নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করছি। 

মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/আরকে

বিজ্ঞাপন