ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটকের ঢলে মুখর হয়ে উঠেছে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। ঈদের তৃতীয় দিন সকাল থেকেই জমে উঠেছে জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো। সকাল থেকেই পর্যটকবাহী শতশত যানবাহন আসতে শুরু করে। ফলে শহর ও আশপাশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়। সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পর্যটকদের পদচারণায় ছিল মুখর।
বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে ইতোমধ্যে প্রায় শতভাগ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ কাপ্তাই হ্রদ, পাহাড়ের বুক চিরে আঁকাবাঁকা উঁচুনিচু রাস্তা এবং সবুজ প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা রাঙামাটি ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।নীল আকাশ, কাপ্তাই হ্রদের বিস্তীর্ণ জলরাশি ও পাহাড়ঘেরা মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন এ পার্বত্য জেলায়।
বিশেষ করে ঝুলন্ত সেতু, আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট, পলওয়েল পার্ক, লেকভিউ গার্ডেন, ডিসি বাংলো পার্ক, শিশু পার্ক, সুভলং ঝর্ণা ও চাংপাংসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এরমধ্যে আসামবস্তি-কাপ্তাই (বড়াদম) সড়কটি পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। সড়কের এক পাশে সবুজ পাহাড়, অন্যপাশে বিস্তীর্ণ কাপ্তাই হ্রদ যা সহজেই পর্যটকদের নজর কাড়ে।
কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঝুলন্ত সেতুর বোটঘাট থেকে পর্যটরা বোট ভাড়া নিয়ে সারাদিন ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া পাহাড়ি আনারস,আম,কাঁঠাল, ডাবসহ বিভিন্ন সুস্বাদু ফল কিনে খাচ্ছেন তারা।
আজ শনিবার (৩০ মে) ঝুলন্ত সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি। দল বেঁধে নৌভ্রমণে মেতে উঠেছেন পর্যটকেরা। ঝুলন্ত সেতুতেও দেখা গেছে উপচে পড়া ভীড়।
ঢাকা থেকে ঝুলন্ত সেতু দেখতে আসা লিলি আক্তার বলেন, প্রথম দেখাতেই রাঙামাটি খুব ভালো লেগেছে। আগে কখনো এখানে আসা হয়নি। ঝুলন্ত সেতু শুধু টেলিভিশনে দেখেছি বাস্তবে এই প্রথম দেখলাম, খুবই ভালো লাগছে।
ফেনী থেকে ঘুরতে আসা প্রবাসী শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা ১০ জন বন্ধু মিলে রাঙামাটিতে বেড়াতে এসেছি। রাঙামাটি খুবই সুন্দর জায়গা। বন্ধুদের মধ্যে কয়েকজন এর আগেও এসেছিল, তবে আমি এই প্রথম রাঙামাটিতে এসেছি। আমরা বোট ভাড়া করে কাপ্তাই হ্রদে ঘুরব।
আরেক পর্যটক আফরোজ ইয়াসমিন ইভা বলেন, রাঙামাটিতে ঘুরতে আসার অনুভূতি বেশ ভালো তবে একটু গরম বেশি মনে হচ্ছে। রাঙামাটির প্রকৃতি অনেক সুন্দর। এর আগেও আমরা রাঙামাটিতে এসেছিলাম এবার দ্বিতীয় বারের মতো এসেছি। আজকে সারাদিন ৮টি স্থানে ঘুরতে একটি বোট ভাড়া করেছি।
আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ বলেন, ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের জন্য ২০ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৩১ মে পর্যন্ত অগ্রিম বুকিং নেওয়া হবে। বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। আগামী কয়েক দিনে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছি।
পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী পর্যটকের আগমন ঘটেছে। ইতোমধ্যে আমাদের প্রায় ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩ হাজার পর্যটক ঝুলন্ত সেতু উপভোগ করছেন। পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছি।
ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে আগামী কয়েকদিনও রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্রে গুলোতে পর্যটকদের এমন ভীড় অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মোস্তফা কামাল রাজু/এমটিআই
