বিজ্ঞাপন

গাইবান্ধায় বাক-প্রতিবন্ধী গৃহকর্মীকে ধর্ষণ, আসামি কারাগারে

গাইবান্ধায় বাক-প্রতিবন্ধী গৃহকর্মীকে ধর্ষণ, আসামি কারাগারে

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বাক-প্রতিবন্ধী গৃহকর্মীকে ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি আরিফ মিয়াকে (২০) কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত আরিফ মামলার পর থেকেই পলাতক ছিলেন।

রোববার (৩১ মে) দুপুরে বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবীবুল ইসলাম হাবীব। শনিবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার আরিফ উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের উত্তর হাটবামুনী গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে। এরআগে ২০২৫ সালের ২ জুলাই এই ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় সাদুল্লাপুর থানায় ধর্ষণের মামলা হয় ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভোক্তভোগী ও আসামির বাড়ি পাশপাশি। অভাবের কারণে মোসলেমা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। গত দুই বছর আগে আসামির বাবার বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ নেন ৩৫ বছর বয়সী ভুক্তভোগী বাক প্রতিবন্ধী মোসলেমা খাতুন। এর সুযোগ নিয়ে আসামি আরিফ বিভিন্ন সময়ে ওই প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ করেন।

পরে ভুক্তভোগীর শারীরিক পরিবর্তন ঘটলে ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয় ভুক্তভোগীর পরিবার। একই সাথে এ ঘটনায় জড়িত আরিফ মিয়ার বিষয়টিও ইশারায় নিশ্চিত করে ভোক্তভোগী মোসলেমা খাতুন। 

পরে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে ভুক্তভোগী ৭ মাস ১৭ দিনের অন্তঃসত্বা বলে নিশ্চিত হয় পরিবার। একই সাথে ভুক্তভোগীকে ২০২৫ সালের ২ জুলাই থেকে বিভিন্ন সময়ে কয়েক দফায় ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি অভিযুক্তের বাবাকে জানানো হয়। এতে কোনো সুরাহা না পেয়ে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রয়ারি আরিফ মিয়াকে একমাত্র আসামি করে সাদুল্লাপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই মেয়ের মা নসিমন বেগম।

এদিকে, সম্প্রতি ধর্ষণের শিকার বাকপ্রতিবন্ধী ওই ভুক্তভোগী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু জন্মের দেড় মাসের মাথায় গত ২৯ মে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায় বলে জানা গেছে। 

সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব ঢাকা পোস্টেকে বলেন, মামলার পর থেকেই আসামি আরিফ পলাতক ছিলেন। গত ২৯ তারিখ রাতে তাকে পাশের গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মাসুম বিল্লাহ/এসএইচএ 

বিজ্ঞাপন