বিজ্ঞাপন

সিরাজগঞ্জে সিএনজি ভাড়ার নৈরাজ্য, অভিযোগ নেই বিআরটিএর কাছে

সিরাজগঞ্জে সিএনজি ভাড়ার নৈরাজ্য, অভিযোগ নেই বিআরটিএর কাছে

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে বাড়তি ভাড়া আদায়ের যে প্রবণতা শুরু হয়েছিল, ঈদের চার দিন পরেও তা বন্ধ হয়নি। রোববার (৩১ মে) সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে এখনও ‘ঈদ বোনাস’ এর নামে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সিএনজি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে, এখন পর্যন্ত একটি অভিযোগও পায়নি বিআরটিএ।

গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সারাদেশে একযোগে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। তবে ঈদের আগের দিন থেকেই সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন রুটে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়া শুরু করেন চালকেরা। ঈদ শেষ হলেও সেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় অব্যাহত রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা শহরের বাজার স্টেশন থেকে বাজার ভদ্রঘাট এলাকায় জনপ্রতি ভাড়া সাধারণ সময়ে ২০ টাকা হলেও বর্তমানে নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা। রাত গভীর হলে সেই ভাড়া ৪০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

একইভাবে জেলা শহর থেকে কড্ডার মোড় পর্যন্ত সিএনজি ভাড়া আগে ২০ টাকা থাকলেও বর্তমানে যাত্রীদের কাছ থেকে ৩০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। ঈদের আগে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরা এবং বর্তমানে ঢাকা ও অন্যান্য এলাকায় কর্মস্থলে ফিরে যাওয়া যাত্রীদের কাছ থেকেও বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

ভুইয়াগাতী এলাকা থেকে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে সিরাজগঞ্জ শহরে আসা মো. রাজমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, তিনজনের ৬০ টাকা ভাড়া বেশি লাগল। ঈদে বেশি ভাড়া নিবেই। স্বাভাবিকভাবে তিনজনের ১৮০ টাকা হলেও এখন দিলাম ২৪০ টাকা।

বাড়তি ভাড়ার বিষয়টি যাচাই করতে বাজার ভদ্রঘাট এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাত্রী হিসেবে ওঠেন ঢাকা পোস্টের এই প্রতিবেদক। এ সময় সাধারণ ভাড়া ২০ টাকা হলেও চালক ৩০ টাকা ভাড়া নেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিএনজিচালক ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের কিছু করার নেই। সিএনজির সিরিয়ালে ২০ টাকার বদলে এখন ৪০ টাকা দিচ্ছি। আবার, ঈদের আগে ১২০ টাকা করে আমরা ঈদ বোনাস দিয়েছি আমাদের সমিতিকে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সোহেল শেখ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের আজ ছুটি শেষ হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধে বিআরটিএ এর একটি টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। তারা এ বিষয়টি দেখছেন। সরকার থেকে এটি ঠিক করে দিয়েছে। 

সিরাজগঞ্জের বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শক তাজুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের অভিযোগ দিলেই আমরা সরেজমিনে যাচ্ছি। কারও অভিযোগ থাকলে, সে যেন আমাদের কাছে আসে। আমরা ম্যাজিস্ট্রেট স্যারকে নিয়ে যাব।

কয়টি অভিযোগ এই পর্যন্ত পেয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। কয়টি অভিযান আপনারা পরিচালনা করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করছি।

অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, তবুও বিআরটিএ তে একটিও অভিযোগ নেই। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের আইনজীবী অ্যাড. আমিনুল ইসলাম মল্লিক ঢাকা পোস্টকে বলেন, মানুষ অভিযোগ করে কোনো ফলাফল পায় না। তাই তারা অভিযোগ করেন না। অনেকে বিআরটিএ কি? এটাই তো বোঝেন না। সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

মো. নাজমুল হাসান/এসএইচএ

বিজ্ঞাপন