পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের খবরে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সোমবার (১ জুন) মন্ত্রীর পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিকেল ৫টার দিকে রাজপথে নেমে আসেন। তারা রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে রাঙামাটি বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। এতে সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়েন। প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন ছিল। মাত্র সাড়ে তিন মাসের মাথায় তার এই পদত্যাগ স্থানীয় জনগণ ও দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে তাকে স্বপদে বহাল রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি জোরালো দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, প্রায় দুই দশক ধরে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন দীপেন দেওয়ান। শারীরিক নানা জটিলতা থাকা সত্ত্বেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে দলের জন্য কাজ করে গেছেন।
রাঙামাটি সদর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ বলেন, মন্ত্রী হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। তিনি একই সঙ্গে তিন পার্বত্য জেলার উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছিলেন। কিছু কুচক্রী মহল তার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা সহ্য করতে না পেরে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। এটি কোনো সাধারণ পদত্যাগ নয়, এর মধ্যে রহস্য রয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি নুর তালুকদার মুন্না বলেন, মন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি পার্বত্যবাসীর জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। মন্ত্রিত্ব পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। একজন সৎ ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন। হঠাৎ করে তার পদত্যাগের খবর আমাদের জন্য অপ্রত্যাশিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি, পার্বত্যমন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে তাঁকে পুনরায় পার্বত্যমন্ত্রীর পদে বহাল করা হোক।
এদিকে পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বাড়াতে তিনি পদ থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন দীপেন দেওয়ান।
মোস্তফা কামাল রাজু/আরএআর
