ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছেন হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় ‘সচেতন ইসলামপ্রিয় জনতা’র ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে হেফাজতে ইসলামের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
এর আগে সোমবার (১ জুন) শাহবাজপুরে চলচ্চিত্র‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এর প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে অংশ নেন রুমিন ফারহানা। সেখানে তিনি বলেন, যে রাষ্ট্র ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও বলাৎকারের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে না, সেই রাষ্ট্র কেন সিনেমা বন্ধে মদদ দেয়? আমরা গত দুই বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি একটার পর একটা মাজার ভাঙা হয়েছে, কবর থেকে তুলে নিয়ে লাশ পোড়ানো হয়েছে। আমরা দেখেছি দক্ষিণপন্থা বা ডানপন্থা উগ্রবাদের উত্থান। কিন্তু আমার দেশের মাটি তো এমন ছিল না। এই দেশে সকালবেলা যেমন কোরআন তিলাওয়াত শুনেছি, তেমনি বিকেলবেলা হারমোনিয়াম নিয়ে ছোট-ছোট বাচ্চারা গান প্র্যাকটিস করেছে- সেটাও আমরা দেখেছি। তাহলে এই বাংলাদেশকে কারা মৌলবাদের ভূমি বানাতে চায়?
রুমিন ফারহানার এই বক্তব্যের প্রতিবাদে মঙ্গলবার মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন জেলা হেফাজতে ইসলামের যুববিষয়ক সম্পাদক জুনায়েদ কাসেমী, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এরশাদ উল্লাহ কাসেমী এবং সরাইল উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সহসভাপতি হাজী মহিবুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে ইসলাম, আজান ও ওয়াজ নিয়ে কটূক্তি করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটিতে কোনো ধরনের অপসংস্কৃতি চলতে দেওয়া হবে না। ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
উল্লেখ্য, গত ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে স্থগিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন আয়োজকরা। একই দিন রাতে কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী বন্ধ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
আরএআর
