শেরপুরে বালুদস্যুদের হামলায় এক বন কর্মকর্তা ও এক বনরক্ষী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ জুন) রাত ৯টার দিকে ঝিনাইগাতী উপজেলার নকশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
আহতরা হলেন, রাংটিয়া রেঞ্জের গজনী বিট কর্মকর্তা সালেহীন নওয়াজ খান (২৮) এবং একই বিটের বনরক্ষী জিয়াউর ইসলাম (৩০)।
জানা যায়, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল সংঘবদ্ধভাবে দুই বন কর্মকর্তার ওপর হামলা চালায়। হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ও বন বিভাগের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা করিম মিয়া বলেন, আজ (বুধবার) ভোর ৫টার দিকে গজনী এলাকায় একটি বালুর গাড়ি আটক করেন গজনী বিট কর্মকর্তা সালেহীন। পরে তিনি আমাকে ফোন দিলে আমি এসিএফ স্যারসহ ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে বালুর গাড়ি ও চালককে আটক করে আমাদের রাংটিয়া রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসা হয়। পরে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে ভেবে ঝিনাইগাতী থানায় জানানো হলে পুলিশ আসলে চালক ও গাড়িটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরই রেশ ধরে রাতে বালুদস্যুরা আমাদের বন কর্মকর্তা ও বনরক্ষীর ওপর হামলা চালায়। আমরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
বালিজুরি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা সুমন মিয়া বলেন, আহতদের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী বিষয় পরে জানানো হবে।
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার শুভ্রাংশু ব্যানার্জি বলেন, বন বিভাগের দুইজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত রয়েছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
তিনি আরও জানান, আহতদের হাসপাতালে আনার পর শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলার কার্যক্রম চলমান। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, ঝিনাইগাতীতে বন বিভাগের দুইজন আহত হয়েছেন বিষয়টি আমরা জেনেছি। তারা বর্তমানে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. নাইমুর রহমান তালুকদার/এএমকে
