ভোলা সদর উপজেলায় ১৮ বছরের এক তরুণীকে রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে চার যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভোলা সদর মডেল থানা-পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তুলাতুলি গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে ও ঘটনার মূলহোতা মো. সাকিব (২৬), বাপ্তা ইউনিয়নের উত্তর বাপ্তা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. রায়হান (২৬) ও বাপ্তা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. শাজুর ছেলে মো. সবুজ (২৬)।
এর আগে, গত শনিবার (৩১ মে) দিনগত রাতে উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাইলট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে রোববার (১ জুন) ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই তরুণী বিবাহিত এবং তার স্বামী একটি হত্যা মামলার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। মামলার ২ নম্বর আসামি সাকিব তার স্বামীর পূর্বপরিচিত এবং স্বামী জেলে থাকায় সাকিব নিয়মিত ভুক্তভোগীর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সাকিব তাকে বিভিন্ন স্থানে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বিভিন্ন সময়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
সর্বশেষ, গত ৩১ মে সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীকে সাকিব ভোলা শহরের নতুন বাজার থেকে একটি অটোরিকশায় উঠিয়ে বাপ্তা ইউনিয়নের পাইলট এলাকায় নিয়ে যান রায়হানের ঘেরের বাগানের মধ্যে। সেখানেই প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীকে রাতভর পালাক্রমে গণধর্ষণ করেন মো. সাকিব, মো. রায়হান, মো. সবুজসহ আরও এক যুবক। ১ জুন ভোরে তাকে ফের অটোরিকশায় উঠিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে গত মঙ্গলবার ও বুধবার তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ছাড়া, আরেক আসামি আত্নগোপনে রয়েছেন।
বুধবার দিনগত রাতে এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি, তদন্ত) মো. জিয়াউদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী থানায় মামলা দায়ের করলে ভোলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আমরা তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। গ্রেপ্তারকৃদের আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠান। মামলার আরেক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান চলছে। এ ছাড়া, এ ঘটনায় অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মো. খাইরুল ইসলাম/এএমকে
