বিজ্ঞাপন

তীব্র খরায় পুড়ে যাচ্ছে লিচু, ক্ষতির মুখে ঈশ্বরদীর চাষিরা

তীব্র খরায় পুড়ে যাচ্ছে লিচু, ক্ষতির মুখে ঈশ্বরদীর চাষিরা

পাবনার ঈশ্বরদীতে এ বছর লিচুর ভালো ফলন হলেও শেষ মুহূর্তে তীব্র তাপপ্রবাহ ও কড়া রোদে লিচুর চামড়া পুড়ে কালচে হয়ে যাচ্ছে। ফলে স্বল্পমূল্যে লিচু বিক্রি করে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন চাষিরা।

সারাদেশে দিনাজপুরের পরেই লিচু উৎপাদনে বিখ্যাত পাবনার ঈশ্বরদী। এখন উপজেলাজুড়ে চলছে বোম্বাই লিচু সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের কাজ। লিচু চাষি, বাগান মালিক, ব্যবসায়ী ও আড়তদার সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিটি বাড়িতে যেন লিচু উৎসবের আমেজ। তবে এরই মধ্যে প্রচণ্ড রোদে লিচুর চামড়া কালচে হয়ে পড়ায় মৌসুমি চাষিদের মুখে বিষণ্নতার ছাপ দেখা গেছে।

ঈশ্বরদীর বৃহৎ লিচুর হাট জয়নগরে গিয়ে দেখা যায়, পাকা টকটকে রসালো লিচুর ঢালি নিয়ে সারি সারি বসে আছেন চাষিরা। জেলার ভেতরে ও বাইরে থেকে আসা ক্রেতাদের বেচাকেনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে হাট। পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা পছন্দমতো লিচু কিনে গাড়িতে করে ছুটে যাচ্ছেন। পাশাপাশি হাটে উঠেছে চামড়া পোড়া বিবর্ণ কালচে লিচুও। সেরা লিচু যেখানে প্রতি হাজার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে চামড়া-পোড়া লিচু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। দিন দিন হাটে এ ধরনের লিচুর সংখ্যা বাড়ছে।

জয়নগর হাটে পোড়া লিচু বিক্রি করতে আসা চাষি নাজমুল হোসেন জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লিচুর দারুণ ফলন হয়েছিল, অধিক লাভের আশা করেছিলাম। কিন্তু এখন তীব্র গরম ও রোদে গাছেই লিচু কালচে রং ধারণ করছে। বাজারে নিয়ে গেলে হাজারে ৩০০-৫০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে, লোকসান গুনতে হচ্ছে। এর আগে দেশি জাতের লিচুও প্রতি হাজার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

চাষি আব্দুল্লাহ আল কাফি বলেন, প্রচণ্ড রোদে লিচু গাছ থেকে ঝরে পড়ে যাচ্ছে। এসব লিচু বাজারে হাজারে ২০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাহিদাও অনেক কম। অনেক সময় ভালো লিচুর সঙ্গে এগুলো বিনামূল্যে দিয়ে দিতে হচ্ছে।

মানিকনগর গ্রামের লিচু বাগান মালিক হাফিজুর রহমান জানান, এ বছর লিচুর ব্যাপক ফলন হয়েছিল। কিন্তু বৈরি আবহাওয়ার কারণে লিচু কালচে ও বিবর্ণ হয়ে গাছ থেকে ঝরে পড়ছে। শুরুতে লাভের আশা করলেও শেষে এসে লোকসান হচ্ছে।

জয়নগর লিচু হাটের আড়তদার আলমগীর হোসেন বলেন, এ হাটে প্রতি হাজার লিচু ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। লিচুর বাজার কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ আবহাওয়া। দ্রুত আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে প্রচণ্ড রোদে লিচুর গায়ে কালো দাগ পড়ছে। এতে কৃষকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন বলেন, কয়েকদিন ধরে ঈশ্বরদীসহ পুরো জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এতে লিচুসহ অনেক ধরনের ফসল ও ফলে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর প্রামাণিক বলেন, এ বছর ঈশ্বরদীতে লিচুর আশানুরূপ ফলন হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ দু-তিন দিন ধরে বৈরি আবহাওয়ার কারণে লিচু কালচে ও বিবর্ণ রং ধারণ করেছে। এতে কৃষকরা তুলনামূলকভাবে কম দাম পাচ্ছেন।

আরএআর