ভোলায় ভাড়া বাসায় সুমাইয়া আক্তার মিতু (২১) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পরপরই আত্মগোপনে গেছেন স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর পৌনে ১টার দিকে ভোলা শহরের উকিলপাড়ায় একটি ফ্ল্যাটের পঞ্চম তলা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সুমাইয়া ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. বশির ও আয়েশা খাতুন দম্পতির বড় মেয়ে। তার ওয়াকিয়া নামে তিন বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।
সুমাইয়ার পরিবার জানায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে পাশের সৃষ্টিতলা এলাকার বাসিন্দা সামসুদ্দিন ও কোহিনুর বেগমের ছেলে কাচের ব্যবসায়ী সোহাগের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সুমাইয়া। এটি উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর সোহাগ তার মা কোহিনুর, বোন লিজা ও স্ত্রীকে নিয়ে উকিলপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। বিয়ের পর থেকে নানা কারণে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন সুমাইয়া। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার ভোলা সদর মডেল থানায় জানানো হয় এবং উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতাও হয়। সর্বশেষ বুধবার রাতে সুমাইয়া তার বোন মিমের মোবাইলে ভয়েস রেকর্ড পাঠিয়ে জানান, স্বামী সোহাগ তাকে আবারও মারধরসহ অমানবিক নির্যাতন করেছেন।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকালে সোহাগ তাদের ফোন করে দ্রুত আসতে বললে তারা এসে দেখেন ঘরের দরজা খোলা এবং সোহাগসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেছেন। শয়নকক্ষের খাটের ওপর সুমাইয়ার মরদেহ পড়ে আছে। পরে খবর পেয়ে ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতাহাল সম্পন্ন করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে সুমাইয়ার বাবা মো. বশির, মা আয়েশা ও চাচাতো ভাই মো. রাহাত বলেন, মেয়ের সুখের জন্য জামাতা সোহাগকে ব্যবসার জন্য ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা দিয়েছি, তবু মেয়ের সুখ দেখিনি। গত রাতে স্বামী সোহাগ, শাশুড়ি ও ননদ মিলে সুমাইয়াকে শারীরিক নির্যাতন করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে গেছে। পরে জানতে পেরেছি সোহাগ ও তার পরিবার একইভাবে তার প্রথম স্ত্রীকেও হত্যা করেছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিয়াউদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতাহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের থুতনির নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পরিবার এখনো থানায় মামলা করেনি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খাইরুল ইসলাম/আরএআর
