বাগেরহাট খানজাহান আলী মাজারের কুমিরের আক্রমণে নিহত হয় আট বছরের ফাতেমা। তার মা ফজিলা সাড়ে তিন বছর পরে ফিরে পেল তার পরিবার।
এদিকে ফাতেমা নিহতের খবর বিভিন্ন বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে সেটি দেখে তার পরিবারের পক্ষ থেকে ভাই, মা, সন্তানসহ ৬ জন ছুটে আসেন খান জাহান আলী মাজারে। সেখান থেকে মাজার কর্তৃপক্ষ তাদের বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠান। নির্বাহী অফিসার তার পরিচয় শনাক্ত করার জন্য সকল কাগজপত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
ফজিলার পরিবারের কাছ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে কোনো এক ঝড়ের পরে ফজিলা তার ছোট কন্যা সন্তান ফাতেমাকে নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান। কোথায় যান তা কেউ জানতে পারেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করার পরেও তাদের কোনো হোদিস মেলাতে পারেনি।
ফজিলা ময়মনসিংহ জেলার খাচিয়ার চর গ্রামের বাসিন্দা।
উল্লেখ্য ফজিলার পারিবারিক জীবনে ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে মোট ৫ সন্তানের জননী তিনি। এর মধ্যে ফাতেমা ছিল সবার ছোট।
ভারসাম্যহীন ফজিলার ছোট ভাই মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, গত তিন বছর পূর্বে আমার বোন হারিয়ে গিয়েছিল। অনেক জায়গায় খুঁজেছি কিন্তু আমরা পাইনি। আজ আমার বোনকে পেয়েছি ভালো লাগছে কিন্তু ভাগনিটাকে পেলাম না তাই কষ্ট হচ্ছে।
ফজিলার মা হাজরা খাতুন বলেন, আমার মেয়ে আমাকে এতদিন পরে দেখে চিনতে পারছে। তারে যাওয়ার কথা বললে সে বলে, আমার মেয়েকে কুমিরে খেয়ে ফেলেছে, আমাকেও খেয়ে যাক।
মেয়েকে পেয়ে এখন অনেক ভালো লাগছে। তবে, নাতিসহ সন্ধান পেলে আরও ভালো লাগতো।
ফজিলা কিছু বলতে পারছেন না, তবে একটি কথাই বার বার বলার চেষ্টা করছেন। আমার মেয়েকে ছেড়ে যাব না। আমার মেয়েকে কুমিরে খেয়েছে, আমাকেও কুমির খেয়ে যাক।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, ভারসাম্যহীন ফজিলা পরিবারের পক্ষ থেকে সকালে তার ভাই, ছেলে ও মা এসেছে আমার কাছে। আমি, সমাজসেবা অফিসার, বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও অন্যান্য অফিসার গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এসএইচএ
