সম্পত্তি ও অর্থ আত্মসাতের পর হত্যাচেষ্টার বিচার দাবিতে রংপুরে আমরণ অনশনে বসেছেন প্রতিবন্ধী মিহির কুমার হালদার। দাবি আদায় না হলে মৃত্যুর পথ বেছে নেওয়া ছাড়া তার কোনো বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল থেকে রংপুর প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি শুরু করেন তিনি।
মিহির কুমার হালদারের অভিযোগ, রংপুর নগরীর দক্ষিণ কামাল কাছনা এলাকায় ২০ শতক জমির ওপর তার বাড়ি ছিল। বিয়ে না করায় তিনি একাই থাকতেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাহাদুর নামে এক ব্যক্তি তার মন জয় করতে অর্থের বিনিময়ে খাবার ও সেবা দেওয়ার নাম করে বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। কিছুদিন পর স্ত্রী-সন্তানদেরও সেখানে নিয়ে আসেন। এরই মধ্যে বাহাদুর ও তার স্ত্রী রোজিনা জোর করে মিহিরের কাছ থেকে ৬ শতক জমি লিখে নেন এবং সেই জমির ২২ লাখ টাকায় গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে ‘বিসমিল্লাহ মেশিনারিজ’ নামে একটি শ্যালো পার্টসের দোকান খোলেন। ব্যবসার হিসাব চাইলে ভয় দেখিয়ে স্ট্যাম্পে সই করিয়ে মিহিরের মালিকানা বাতিল করা হয়।
তিনি আরও জানান, চিকিৎসার প্রয়োজনে আরও ৪ শতক জমি ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি করে ব্যাংকে রাখলে রোজিনা বেগম জোর করে চেকে সই নিয়ে নিজের ইচ্ছামতো টাকার পরিমাণ ও তারিখ বসিয়ে সে অর্থ তুলে নেন। গত দুই মাসে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৭টি স্ট্যাম্প ও কিছু সাদা কাগজে জোর করে সই করিয়ে তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
মিহির বলেন, আমার নিজ বাড়িতে বাহাদুর ও তার স্ত্রী থাকতে দিচ্ছেন না। তারা বিভিন্ন সময় খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে কয়েকটি কাগজে সই নিয়েছে। আমার মোটরসাইকেল দখল করে নিয়েছে। ব্যাংকে থাকা লাখ লাখ টাকা বাহাদুরের স্ত্রী তুলে নিয়েছেন। এসবের দলিল ব্যাংকে আছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
মিহিরের অভিযোগ, বাহাদুরের বিরুদ্ধে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করতে গেলে থানা তা লিপিবদ্ধ না করে সালিশের আয়োজন করে এবং টাকা পাবেন না- এই মর্মে সাদা কাগজে সই নেয়। আইনি প্রতিকার না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি প্রেস ক্লাবে আমরণ অনশনে বসেন।
মিহিরের অনশন কর্মসূচিতে সংহতি জানান সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট জোবাইদুল ইসলাম বুলেট, সমাজসেবক ও মানবাধিকার কর্মী মোকছেত বাহলুল, এবি পার্টির নেতা রেজওয়ানুল বারী রিজু, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসী।
অ্যাডভোকেট জোবাইদুল ইসলাম বুলেট বলেন, মিহির কুমার হালদার স্বাধীনতা সংগ্রামে সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তার জমি জোর করে লিখে নেওয়া ও ব্যাংকের টাকা তুলে নেওয়ার বিষয়ে তিনি আমাদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নিজ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধী এই নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসবেন বলে প্রত্যাশা করছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাহাদুর বলেন, মিহির হালদার আমার কাছে কিছু টাকা পান। থানায় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়েছে। আমি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিইনি এবং কোনো প্রাণনাশের হুমকি দিইনি। আমার পরিবারই তার দেখাশোনা করত। তার অভিযোগ সত্য নয়।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/আরএআর
