বিজ্ঞাপন

সোনারগাঁয়ে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নির্যাতনে মৃত্যু, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সোনারগাঁয়ে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নির্যাতনে মৃত্যু, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় এভারগ্রিন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নির্যাতনে ফয়জুল মিয়া (৫৫) নিহত হওয়ার অভিযোগে ৯ জনের নাম উল্লেখ মামলা করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নিহত ফয়জুলের মেয়ে নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলাটি করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- সজিব আহম্মেদ, মো. উজ্জল, শাফায়েত, মো. রমজান, মো. মামুন, মো. মনির, মো. হানিফ, রকি ও আনিস। এছাড়া দুই থেকে তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

উপজেলার বৈদ্দ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় ছগির আহম্মেদের ছেলে সজিব আহম্মেদ, ইসমাইল মিয়ার ছেলে রকি ও মনির হোসেনের অংশীদারত্বে এভারগ্রিন মাদক নিরাময় কেন্দ্র গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার নামে ওই কেন্দ্রে অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো এবং প্রায়ই লাঠি দিয়ে মারধর করা হতো।

মাদক নিরাময় কেন্দ্রে থাকা মাসুদ বলেন, আমাদের প্রায়ই মারধর করা হতো। নিহত ফয়জুলসহ প্রায় ১২ জনকে ওই দিন পেটানো হয়। আমাকেও লাঠি দিয়ে হাতের মধ্যে আঘাত করা হয়েছে।

নিহত ফয়জুল মিয়ার স্ত্রী মাসুদা বেগম জানান, স্বামীকে মাদক থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এভারগ্রিন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেন। ঈদের পরদিন তাকে খাবার দিয়ে গেছেন। কিন্তু বুধবার রাতে হাসপাতালে গিয়ে দেখেন তার স্বামী মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। তার অভিযোগ, মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের লোকজনের নির্যাতনে তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাত ১০টার দিকে বৈদ্দ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় এভারগ্রিন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ফয়জুল মিয়াকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে হাসপাতালে রেখে নিরাময় কেন্দ্র বন্ধ করে সেখানকার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পালিয়ে যান।

মীমরাজ হোসেন/আরকে

বিজ্ঞাপন