কুড়িগ্রামে পাঁচগাছি ইউনিয়নের চর সিতাইঝাড় এলাকার ভেঙে পড়া সেতুটি এখন প্রায় তিন লাখ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত সেতুটি ধসে পড়ার পর তিনটি ইউনিয়নের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছি-ভেলুরহাট সড়কের ওপর প্রায় ২০ বছর আগের এলজিইডি নির্মিত সেতুটি গত ২৪ মে একটি ট্রাক্টর পারাপারের সময় হঠাৎ ভেঙে পড়ে। এতে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হন। এরপর থেকে সেতুটি সম্পূর্ণভাবে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।
বর্তমানে স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়ে অস্থায়ী কাঠের পাটাতনের মাধ্যমে পারাপার করছেন। তবে রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ কৃষিপণ্য পরিবহনকারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় পাঁচগাছি, মোগলবাসা ও বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের প্রায় ৩ লাখ মানুষ বিপাকে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, সেতু ধসের কারণে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে হচ্ছে। জরুরি রোগী পরিবহনেও দেখা দিয়েছে সংকট। ফলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তারা আরও জানান, নতুন সেতু নির্মাণে সময় লাগলেও আপাতত মাটি ভরাট করে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমে।
অটোরিকশাচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, এই সড়কে গাড়ি চালিয়েই সংসার চলত। সেতু ভেঙে যাওয়ার পর আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কৃষক মো. আবু হানিফ বলেন, এই সড়ক আমাদের জীবনরেখা। কৃষিপণ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনের প্রধান পথ এটি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষকদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
স্কুলশিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম জানায়, আমাদের এই ব্রিজ দিয়ে যেতে ভয় লাগে। কখন জানি পড়ে যাই।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ সোহেল জানান, সেতুটি পরিদর্শন করা হয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে অস্থায়ীভাবে কাঠের সেতুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মমিনুল ইসলাম বাবু/এসএইচএ
