বিজ্ঞাপন

সাত জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল বাবা-মেয়েসহ ৮ জনের

সাত জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল বাবা-মেয়েসহ ৮ জনের

বজ্রপাতে দেশের সাত জেলায় বাবা মেয়েসহ ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে টাঙ্গাইলে বাবা-মেয়ে, মাঠে কাজ করার সময় বরগুনায় এক কৃষক, মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে পটুয়াখালী, শরীয়তপুর ও পিরোজপুরে তিন কৃষক, বরিশালে মাছের ঘেরে কাজ করতে গিয়ে এক স্কুলছাত্র এবং চাঁদপুরে বাড়ি ফেরার পথে এক যুবকের মৃত্যু হয়।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে বজ্রপাতে বাবা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার ফাজিলহাটি ইউনিয়নের শাহদারিপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, উপজেলার মাদারকোল গ্রামের বাসিন্দা খালিদুর রহমান (২৯) ও তার মেয়ে খাদিজা আক্তার (১০)।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার খালিদুল স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ফাজিলহাটি ইউনিয়নের পুটিয়াজানী গ্রামে যান। দুপুরে পার্শ্ববর্তী গ্রাম মেরুয়াঘোনা গ্রামে আরেক আত্মীয়বাড়ি দাওয়াত খাওয়ার উদ্দেশে যাত্রা পথে শাহধারীপাড়া নামক স্থানে পৌঁছে অটোরিকশা থেকে নামার সময় বাবা ও মেয়ে দুজনে হঠাৎ বজ্রপাতের শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার সময় খালিদুলের পকেটে এনড্রোয়েড মোবাইল সেট ছিল। মোবাইল সেটটি পুড়ে বিনষ্ট হয়ে যায়। সেই সঙ্গে খালিদুলের গায়ের শার্টটিও পুড়ে যায়। এ ঘটনায় খালিদুলের পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এছাড়া একই সময় সদর ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া গ্রামে আসব খানের দুটি গরুও বজ্রপাতে মারা যায়।

বাবা-মেয়ের একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।  

দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাখাওয়াত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারে নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

বরগুনা

বরগুনায় হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় মো. মহিউদ্দিন (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই কৃষক সদর উপজেলার ৬নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের মো. সেকান্দরের ছেলে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মস্তুকটানা নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকালে হঠাৎ করেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বরগুনায় বৃষ্টি শুরু হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনাও ঘটে। এ সময় বুড়িরচর ইউনিয়নের মস্তুকটা এলাকার কৃষক মহিউদ্দিন তার কৃষি জমিতে কোদাল দিয়ে মাটি কাটার কাজ করছিলেন। পরে হঠাৎ ওই এলাকায় একটি বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মহিউদ্দিনের মৃত্যু হয়। 

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম ঢাকা পোস্টকে বলেন, বজ্রপাতে মহিউদ্দিন নামে একজনের মৃত্যু খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ফসলের মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মজিবর সরদার (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মজিবর সরদার ওই এলাকার মৃত আয়নাল সরদারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকাশে মেঘ জমে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হলে বাড়ির পাশের মাঠে বাঁধা গরু আনতে যান মজিবর সরদার। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃষ্টির মধ্যেই গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছিলেন মজিবর। ঠিক সেই মুহূর্তে আকস্মিক বজ্রপাত তার শরীরে আঘাত হানে। বজ্রপাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শরীয়তপুর

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মুছা হাওলাদার (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের মৃধাপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মুছা হাওলাদার ওই গ্রামের মৃত মুল্লুক চান হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালে মুছা হাওলাদার তার গরুগুলো মাঠে চরানোর জন্য রেখে আসেন। দুপুরের দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে তিনি গরুগুলো ফিরিয়ে আনতে মাঠে যান। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেন কোদালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার বাবু মৃধা। তিনি বলেন, মুছা হাওলাদার মাঠ থেকে গরু আনতে গেলে বজ্রপাতে মারা যান।

পিরোজপুর

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে ছোয়ারাব জোমাদ্দার (৫০) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে উপজেলার সোনাখালী এলাকার ডা. রুস্তম আলী ফরাজি কলেজ সংলগ্ন মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ছোয়ারাব জোমাদ্দার ওই এলাকার মৃত হাসেম জোমাদ্দারের ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে আকস্মিক বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে ছোয়ারাব জোমাদ্দার বাড়ির অদূরে ডা. রুস্তম আলী ফরাজি কলেজ সংলগ্ন মাঠে চরে থাকা নিজের গরু খুঁজতে যান। মাঠে পৌঁছামাত্রই তার ওপর বজ্রপাত হয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই ঝলসে যান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা মাঠ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, বজ্রপাতে কোনো নিহতের ঘটনা আমি এখন পর্যন্ত জানি না। যদি পরিবার নিহতের বিষয়ে কোনো অভিযোগ প্রদান করে। তাহলে মঠবাড়িয়া থানা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বরিশাল

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাছের ঘেরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে তানভীর খান (১৮) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তানভীর খান ওই গ্রামের ওয়াসিম খানের ছেলে। তিনি চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তানভীর খান বাড়ির পাশের একটি মাছের ঘেরে কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে বজ্রপাতের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাহানাজ পারভীন সেতু তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চাঁদপুর

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বজ্রপাতে নবী হোসেন মিজি (২৭) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের সাইসাঙ্গা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। 

নিহত নবী হোসেন মিজি ওই গ্রামের নোয়া বাড়ির মনির হোসেন মিজির ছেলে। পেশায় দিনমজুর, নবী হোসেন মিজির ৩ মাস বয়সী ফারজানা নামে এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পূর্বে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এ সময় নবী হোসেন মিজি পার্শ্ববর্তী ভোটাল গ্রাম থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। ধান ক্ষেতের পাশ দিয়ে বাড়ির কাছাকাছি আসলে বজ্রপাতে তিনি লুটিয়ে পড়েন। পরে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জিলন জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পূর্বে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এসময়ে নবী হোসেন মিজি  বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বাড়ির ধান ক্ষেতের পাশ দিয়ে বাড়ির কাছাকাছি আসলে বজ্রপাতে সে লুটিয়ে পড়ে। 

গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ বলেন, নিহতের  পরিবারকে আমার অবস্থান থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। 

এসএইচএ