বিজ্ঞাপন

রংপুরে সংহতি সমাবেশ

নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি, মাসব্যাপী কর্মসূচি

নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি, মাসব্যাপী কর্মসূচি

নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ ৬ দফা দাবিতে রংপুরে সংহতি সমাবেশ করেছে তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ। সমাবেশ থেকে উত্তরের দুই কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার পাশাপাশি প্রাণ-প্রকৃতি ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব রক্ষায় আসন্ন জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রেখে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরুর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংহতি সমাবেশে  রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, আইনজীবী, সাংবাদিক, ছাত্র, যুবক, শ্রমিক, কৃষক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানীর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান, স্টান্ডিং কমিটির সদস্য আব্দুর রউফ দুলাল, মোহাম্মদ আলী, জেলা সুজনের সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু , মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, কারমাইকেল কলেজের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম সাইফ, মহানগর জাসদের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ, বাংলার চোখের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তানবীর হোসেন আশরাফী, এনসিপি নেতা আলমগীর কবির, জেলার আহ্বায়ক আল মামুনসহ অন্যরা।

সভায় বক্তারা বলেন, উত্তরের দুই কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার পাশাপাশি প্রাণ-প্রকৃতি ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব রক্ষায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। দীর্ঘ এক যুগ ধরে ‘তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’, তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনসহ কয়েকটি সংগঠন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, তিস্তা পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে আন্দোলন করে চলেছে। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ফ্যাসিস্ট সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে চীন রাষ্ট্রদূত রংপুরে এসে জানিয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো বাধা নেই। চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। 

সংহতি সমাবেশে অংশ নেওয়া বক্তরা বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার প্রধান নির্বাচনের আগে রংপুরে জনসভায় বলেছিলেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু বিপুল পরিমাণ অর্থ দ্বারা নির্মিতব্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প একনেকে পাস হলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি।

এদিকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রতি বছর বন্যা-ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ভিটে-মাটিসহ জীবিকার পথ হারাচ্ছে। আবার শুস্ক মৌসুমে পানি না পেয়ে ফসল উৎপাদন করতে পারছে না। যার প্রভাব পড়ছে উত্তরের প্রাণ-প্রকৃতিতে।

সংহতি সভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ, একনেক সভায় প্রকল্প অনুমোদন ও সময়বদ্ধ রোডম্যাপ ঘোষণা, প্রকল্পে কাজ তদারকির জন্য অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নদী প্রকৌশলী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং তিস্তা আন্দোলনে যুক্ত প্রতিনিধি সমন্বয়ে ‘তিস্তা কর্তৃপক্ষ’ গঠন, তিস্তা প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দক্ষ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, সরকারিভাবে সঞ্চয়পত্রের মতো তিস্তা বন্ড চালু এবং তিস্তার বালু ও পাথর উত্তোলনে সরকারি ব্যবস্থাপনা, তিস্তা বন্ড ও বালু-পাথর বিক্রির আয় প্রকল্প কাজে বিনিয়োগ এবং প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনবার্সন, কৃষক সময়বায় ও কৃষি ভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে তোলার উপর ৬ দফা দাবি জানায় তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ। 

একই সাথে  তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃত্বে পুরো জুন মাসব্যাপী তিস্তাপাড়ের ৫ জেলার ১২ উপজেলায় উঠান বৈঠক, হাটসভা, পথসভা, লিফলেট বিতরণ ও গণসমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। পহেলা জুলাই থেকে তিস্তাপাড়ের ৫ জেলা একযোগে মশাল প্রজ্জ্বলন ও গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করবে সংগঠনটি।

ফরহাদুজ্বজামান ফারুক/এসএইচএ

বিজ্ঞাপন