ভোলায় ভাড়া বাসায় সুমাইয়া আক্তার মিতু (২১) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী, শাশুড়ি ও ননদসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে ভোলা সদর মডেল থানায় মামলা হয়েছে।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন, গৃহবধূর স্বামী ব্যবসায়ী মো. সোহাগ, শাশুড়ি কোহিনূর বেগম, ননদ লিজা ও মুক্তা। এ ছাড়া, আরও চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার পর থেকেই আত্নগোপনে রয়েছেন তারা সবাই।
মিতুর বাবা মো. বশির আহমেদ বাদী হয়ে শুক্রবার (৫ মে) বিকেলে ভোলা সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোলা শহরের উকিলপাড়ায় গোরস্থান মাদরাসা-সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে মিতুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. বশির ও আয়েশা খাতুন দম্পতির বড় মেয়ে। তার ওয়াকিয়া নামে তিন বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে পার্শ্ববর্তী চরপাতা গ্রামের সোহাগের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। বিয়ের পর থেকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো, যা নিয়ে বেশ কয়েকবার শালিসি হয়েছিল। কিন্তু তারপরও স্বামীর বাড়িতে মিতুর সুখ হয়নি। সর্বশেষ গত ৩ জুন দিনগত রাতে তাকে শারীরিক নির্যাতন করেন তারা। এদিন রাতেই নির্যাতনের বিষয়টি মিতু তার বোনকে জানান। পরবর্তীতে ৪ জুন সকালে স্বামী সোহাগ মিতুর বাবার বাড়িতে ফোন দিয়ে দ্রুত আসতে বললে বাবা-মা এসে দেখেন শোবার ঘরে মিতুর মরদেহ পড়ে আছে। খবর পেয়ে ভোলা সদর মডেন থানা-পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মিতুর পরিবারের দাবি, এটি পরিককল্পিত হত্যাকাণ্ড, এ ছাড়া, মিতু হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিও জানান মামলার বাদী মো. বশির আহমেদ।
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি, তদন্ত) মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান চলছে। এ ছাড়া, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে ওই গৃহবধূর মৃত্যুর প্রকৃত কারণা জানা যাবে।
মো. খাইরুল ইসলাম/এএমকে
