বিজ্ঞাপন

৩৪ ঘণ্টা ধরে পঞ্চগড় সীমান্তে ১০ জন, সমাধান মেলেনি পতাকা বৈঠকেও

৩৪ ঘণ্টা ধরে পঞ্চগড় সীমান্তে ১০ জন, সমাধান মেলেনি পতাকা বৈঠকেও

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১০ জন ব্যক্তি ৩৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শূন্যরেখার ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এ পরিস্থিতির এখনো কোনো সমাধান হয়নি। খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ১০ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুইজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছেন। শুক্রবার ভোর থেকে তারা সীমান্তসংলগ্ন একটি কৃষিজমিতে অবস্থান করছেন। জমিটিতে পানি জমে রয়েছে। এরপর থেকে তারা খোলা আকাশের নিচেই রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শুক্রবার রাতে এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময়ও নারী-শিশুসহ ওই ব্যক্তিরা একই স্থানে অবস্থান করেন। তাদের জন্য কোনো ধরনের অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে খোলা মাঠে অবস্থান করায় শিশুদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

এর আগে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টা করলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তা প্রতিহত করে। বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি। বর্তমানে তারা শূন্যরেখার ওপারে ভারতের অভ্যন্তরেই অবস্থান করছে।

ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে কোম্পানি পর্যায় ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সমাধান মেলেনি। শনিবার দুপুরে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে প্রায় ২০ মিনিটের একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি ৯৩ বিএসএফের কমান্ডারের সঙ্গে স্পট মিটিং করেছেন এবং ওই ব্যক্তিদের ফেরত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে বিএসএফ দাবি করেছে, তারা বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় তাদের গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি তাদের বলেছি, যেহেতু তারা ভারতের অভ্যন্তরে ছিল, আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের (আইসিপি) মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানো উচিত। রাতের অন্ধকারে সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে এভাবে ফেলে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, ওই ব্যক্তিরা রাতভর বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে ছিলেন। তারা না খেয়ে কষ্ট পাচ্ছেন। এটি অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি করছে। আমরা বিএসএফকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং তাদের ফেরত নেওয়ার অনুরোধ করেছি। তবে এখন পর্যন্ত তারা রাজি হয়নি।

বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, কোনো ধরনের পুশ ইন বাংলাদেশ গ্রহণ করবে না। যদি তারা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের ফেরত পাঠাতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। কিন্তু পুশ ইন কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে।

নুর হাসান/আরএআর

বিজ্ঞাপন