বিজ্ঞাপন

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা, দিন-রাত পাহারায় বিজিবি-গ্রামবাসী

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা, দিন-রাত পাহারায় বিজিবি-গ্রামবাসী

দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ‘পুশ ইন’ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জেলার প্রায় ১০৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে দিন-রাত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাহারায় অংশ নিচ্ছেন স্থানীয়রাও।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতে অবস্থানরত কিছু মানুষকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশের কয়েকটি সীমান্ত এলাকায় এমন ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় সীমান্ত অঞ্চলে সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে।

বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পুশ ইনের চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ কোনো সীমান্ত এলাকায় পুশ ইনের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে বিজিবি। সীমান্তে নজরদারি জোরদার থাকায় অনুপ্রবেশ বা পুশ ইনের যেকোনো প্রচেষ্টা শুরুতেই প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি বাহিনীটির।

ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির আওতাধীন হরিপুর, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন বিওপি (বর্ডার আউট পোস্ট)-তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্ভাব্য পুশইন পয়েন্টগুলোতে বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বিজিবি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকায় শুধু দিনের বেলায় নয়, রাতেও বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের গুজব, বিভ্রান্তি বা অবৈধ অনুপ্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি না হয়। একই সঙ্গে সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তির গতিবিধি দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে জানাতে স্থানীয়দের অনুরোধ করা হয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বেউরঝাড়ি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা মজিবর রহমান বলেন, সীমান্ত আমাদের ঘরের পাশেই। তাই দেশের নিরাপত্তার বিষয়টিও আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কখনো চাই না অবৈধভাবে কেউ বাংলাদেশে প্রবেশ করুক। বিজিবি যেভাবে টহল দিচ্ছে, তাতে আমরা আশ্বস্ত। প্রয়োজনে আমরাও তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছি।

একই এলাকার আকবর আলী বলেন, সীমান্তে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আমরা সচেতন রয়েছি। বিজিবির সদস্যরা নিয়মিত মাইকিং করছেন, বাঁশি বাজিয়ে সতর্ক করছেন। আমরাও এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকতে বলছি। দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মহেশীন বলেন, বিজিবি একা নয়, পুরো সীমান্ত এলাকার মানুষ এখন সীমান্ত রক্ষায় তাদের পাশে আছে। আমরা চাই না কোনোভাবেই দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হোক। তাই যেকোনো সন্দেহজনক বিষয় দেখলেই আমরা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর আহসান কবির বলেন, সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, মাইকিং ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সম্ভাব্য পুশ ইন পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও জনবল বাড়ানো হবে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত রক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষও অসাধারণ দেশপ্রেমের পরিচয় দিচ্ছেন। তারা আমাদের তথ্য দিয়ে, টহলে সহযোগিতা করে এবং সচেতনতা তৈরি করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। সীমান্তবাসীর এই সহযোগিতা আমাদের দায়িত্ব পালনে আরও শক্তি জোগাচ্ছে।

রেদওয়ান মিলন/এসএইচএ 

বিজ্ঞাপন