শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে রহস্যজনকভাবে মাটি অস্বাভাবিক গরম হয়ে ওঠার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, রোগী ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি নির্দিষ্ট স্থানে প্রায় ৫০ ফুট এলাকাজুড়ে মাটির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে।
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিসের একটি দল পানি দিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান প্রবেশ সড়কের একটি অংশে মাটি স্পর্শ করলেই তীব্র তাপ অনুভূত হচ্ছে। বিষয়টি জানাজানি হলে কৌতূহলী মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর মধ্যে সম্ভাব্য বিস্ফোরণ বা অন্য কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। প্রাথমিকভাবে তারা ওই এলাকায় মাটির নিচে গর্ত করে পানি দিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।
তবে, এখন পর্যন্ত তাপের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে ঘটনাস্থলের আশপাশে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুল রহমান মিয়া বলেন, প্রথমে বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। বিষয়টি নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। রোগী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
গোসাইরহাট পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. আব্দুল মতিন বলেন, খবর পেয়ে আমাদের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে সেখানে বিদ্যুতের কোনো ত্রুটি বা লিকেজের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা এবিএম বাসার বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করেছি। উত্তপ্ত স্থানে বারবার পানি দিয়েও তাপমাত্রা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। মাটির নিচ থেকেও তাপ অনুভূত হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে, তাপের উৎস সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওসাদ হাসান বলেন, রহস্যজনক এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টির কারণ অনুসন্ধান করা হবে।
নয়ন দাস/এসএইচএ
