বিজ্ঞাপন

দক্ষিণের সীমান্তজুড়ে সতর্ক বিজিবি, বিএসএফের একাধিক পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ

দক্ষিণের সীমান্তজুড়ে সতর্ক বিজিবি, বিএসএফের একাধিক পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ

দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে পুশইনের (অনুপ্রবেশ) একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অরক্ষিত কিছু সীমান্ত পথ দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবির কঠোর নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং গোয়েন্দা তৎপরতার কারণে সেই চেষ্টাগুলো ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির বাধার মুখে পুনরায় ওপারে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।

এদিকে খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ জনপদের সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি ও সতর্কাবস্থানে রয়েছে বিজিবি সদস্যরা। বিভিন্ন স্থানে বিজিবির সঙ্গে পাহারা দিচ্ছে গ্রামবাসীও। জল ও স্থল সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারিতে বিজিবির পাশাপাশি কোস্টগার্ডও।

বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত সুরক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। যেকোনো ধরনের পুশইনের চেষ্টা রুখে দিতে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত।  

তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ৬ জনকে পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ

অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন ঠেকাতে মেহেরপুর সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীও পাহারায় অংশ নিয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) ভোরে গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তের ১৪০/৫-এস আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের নিকট হাটপাড়া এলাকায় ভারত থেকে ৬ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয়রা। বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ওই ৬ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করাতে পারেনি। বর্তমানে তারা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। ওই ৬ জনের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ২ জন নারী, ১ জন বৃদ্ধ ও ১ জন শিশু রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে বিএসএফকে পুশইনকৃত ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

তেঁতুলবাড়ীয়া বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার হাবিবুর রহমান বলেন, পুশইনকৃতদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বিএসএফকে বারবার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অবৈধ কোনো অনুপ্রবেশ কিংবা পুশইন বাংলাদেশ মেনে নেবে না। সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী কিংবা পুশইনের কোনো চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। সীমান্তে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আজকের পুশইন চেষ্টার বিষয়টি সমাধানে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এর আগে সম্ভাব্য পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মেহেরপুরের গাংনী, মুজিবনগর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবি নজরদারি বাড়ায়। সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সার্চলাইট, টহল ও স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি ৪৭ ও স্থানীয় বাসিন্দারা। রাত জেগে বিজিবির সাথে পাহারায় অংশ নিয়েছে স্থানীয়রা।

বিজিবি সূত্র জানায়, কুষ্টিয়ার ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ দৌলতপুর সীমান্ত এলাকায় পুশইনের কোনো চেষ্টা সফল হয়নি। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত মাইকিং করে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে বিজিবি। স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে। এছাড়াও পুশইনের সাথে জড়িত কিছু দালালের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।  

কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও মেহেরপুরের গাংনী সীমান্ত এলাকা দিয়ে একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। আজ সকালে মেহেরপুরের গাংনীর তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় গ্রামবাসী। তাদের শূন্য রেখায় আটকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও গত ৪-৫ দিন আগে দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধে তারা প্রবেশ করতে পারেনি। কিছু দালাল চক্র এর সাথে জড়িত আছে। তাদের কিছুজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে শুনতে পেয়েছি বা প্রমাণ পেয়েছি সে কয়জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

অধিনায়ক বলেন, সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা টহল, মাইকিং ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য পুশইন পয়েন্টগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্ত রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, এই সময়ে সীমান্তে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকরা আমাদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তারা বিজিবির সঙ্গে টহল কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন। এ জন্য তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

মহেশপুর সীমান্তে ১০টি পুশইনের চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তেও বিরাজ করছে পুশইন আতঙ্ক। অভিযোগ রয়েছে, বিএসএফ দফায় দফায় বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে। তবে প্রতিটি চেষ্টাই প্রতিহত করছে বিজিবি। মহেশপুর সীমান্তের ১২টি বিওপির মধ্যে যাদবপুর বিওপি এলাকায় পুশইনের ঘটনা বেশি ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও সীমান্তের প্রত্যেকটি বিওপিতে নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনো অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাহিনীটি।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তের ওপারে বিভিন্ন যানবাহনে করে লোকজন এনে জড়ো করা হচ্ছে। ফলে যেকোনো সময় নতুন করে পুশইনের চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

৫৮ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানিয়েছেন, মহেশপুর সীমান্তে এ পর্যন্ত ১০টি পুশইনের চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সকল সদস্য সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।

বিজিবির সঙ্গে সতর্ক কোস্ট গার্ডও

নারী, পুরুষ ও শিশুদের বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তের ওপারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে জড়ো করার তথ্য পাওয়ার পর জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সাতক্ষীরার সঙ্গে ভারতের জল ও স্থল মিলিয়ে প্রায় ১৩৮ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে ৮৪ কিলোমিটার এবং ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে ৫৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে। পুশইনসহ যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দুই ব্যাটালিয়নই সীমান্তে কড়া অবস্থান নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মে থেকে কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি ও চন্দনপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাকিমপুর এলাকায় ২০০ থেকে ৩০০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে জড়ো করা হয়। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, তাদের বাংলাদেশে পুশইনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। পরবর্তীতে বিএসএফ কয়েক দফায় তাদের সীমান্তের কাছাকাছি নিয়ে এলেও বিজিবির কঠোর অবস্থান ও বাড়তি নজরদারির কারণে কোনো বড় ধরনের পুশইনের ঘটনা ঘটেনি। তবে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বড় আকারে পুশইন সম্ভব না হলেও রাতের অন্ধকারে বিচ্ছিন্নভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হতে পারে। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

কলারোয়ার কেড়াগাছি, চন্দনপুর, কাকডাঙ্গা, মাদরা, পদ্মশাখরা, হিজলদীসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় দিন-রাত টহল জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরা সীমান্তে টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। যেকোনো ধরনের পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

নীলডুমুরস্থ ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহরিয়ার রাজিব বলেন, আমাদের দায়িত্বপূর্ণ ৮৪ কিলোমিটার জল ও স্থল সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনোভাবেই অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের সুযোগ দেওয়া হবে না। সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে সীমান্ত নিরাপত্তায় বিজিবির পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডও।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহবুর হোসেন বলেন, আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় সম্ভাব্য পুশইন প্রতিরোধে অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। নদী ও উপকূলীয় সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি চলছে। ড্রোনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোস্ট গার্ডের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

বেনাপোল সীমান্তে পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ  

যশোরের বেনাপোলে ১১০ থেকে ১২০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা চালায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গত রোববার (৩১ মে) রাত ১২টার দিকে বেনাপোলের রঘুনাথপুর সীমান্ত পিলার ১৯/৩-এস থেকে ১৯/৫-এস পর্যন্ত ভারতের অভ্যন্তরে সীমান্ত সড়কে তিনটি গাড়ি আসে। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করে ভারতীয় অংশে সীমান্ত নিরাপত্তা বাতি বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিজিবি ও সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। রাতের আঁধারে ১১০ থেকে ১২০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে থাকায় তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পার করে নারী-শিশুসহ ১০-১২ জনকে শূন্যরেখায় রেখে চলে যায় বিএসএফ সদস্যরা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কড়া অবস্থানে যায় বিজিবি। বিজিবির সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয়রা। একপর্যায়ে ২ জুন দুপুর ১২টার দিকে যশোর ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নীল রঙের পতাকা উড়িয়ে বিজিবির আটজনের একটি দল সীমান্তের শূন্যরেখায় যান। কিন্তু তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করায় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ফিরে আসেন বিজিবি সদস্যরা।

এদিকে নারী ও শিশুসহ শূন্যরেখায় অবস্থানকারী ১০ থেকে ১২ জন আটকে পড়েন। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। সেখানে তিনদিন অবস্থানের পর তাদেরকে সরিয়ে নেয় বিএসএফ।

বেনাপোলের সাদিপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, ১০-১২ জন লোককে বাংলাদেশি দাবি করে অবৈধ পথে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি শক্ত অবস্থানে থাকায় সেটা সম্ভব হয়নি। আমরাও প্রস্তুত আছি। অবৈধ পুশইন যাতে না হয়, সে জন্য আমরা বিজিবিকে সহযোগিতা করছি।

যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান জানান, ভারতের অবৈধ পুশইন রুখে দিতে সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দায়িত্বপূর্ণ ৭০.২৭৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমান্তবর্তী এলাকায় অনবরত মাইকিং করছি। সেখানে ভারত থেকে যেকোনো ধরনের তথাকথিত পুশইনের চেষ্টা রুখে দিতে সীমান্তবাসীকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। জনগণও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিচ্ছে। যতদিন প্রয়োজন মনে হবে, ততদিন মাইকে প্রচার চলবে বলে জানান তিনি। 

চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টাকালে আটক ১০  

সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে গত রোববার (৩১ মে) ভোর আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধীন বারাদি বিওপির একটি নিয়মিত টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টাকালে ১০ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ৫ জন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় ৬ বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই যাতে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের ঘটনা সংঘটিত না হয়, সে লক্ষ্যে সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় টহল কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি জনবলও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিজিবি সার্বক্ষণিক নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং যে-কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

( প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন ঢাকা পোস্টের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি ইব্রাহীম খলিল, মেহেরপুর প্রতিনিধি মাহাবুল ইসলাম, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি সম্রাট হোসেন, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি আফজালুল হক, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি রবিউল আলম ইভান ও যশোর প্রতিনিধি রেজওয়ান বাপ্পী। ) 

আরএআর

বিজ্ঞাপন