নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় বজ্রপাতে মো. টিটুল খাঁন (৫০) এবং মো. বাবুল বিশ্বাস (৪০) নামে ২ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মো. শহীদ শেখ (৪৫) নামে আহত হয়েছেন আরও একজন।
শনিবার (৬ জুন) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
বজ্রপাতে নিহতরা হলেন- মো. টিটুল খাঁন লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের শালনগর গ্রামের মৃত মতি খানের ছেলে এবং মো. বাবুল বিশ্বাস নলদী ইউনিয়নের মতিনগর গ্রামের বিল্লাল বিশ্বাসের ছেলে। আহত মো. শহিদ শেখ একই গ্রামের মো. কনা শেখের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ৩টার দিকে মো. টিটুল খান গরুকে পানি খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে মধুমতী নদীর চরের যান। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ প্রচণ্ড বৃষ্টি ও মেঘের গর্জন শুরু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বজ্রপাতের ঘটনা তার খুব কাছেই হয়েছে। এতে তার কানের তলা ফেটে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
বৃষ্টি কমার পর স্থানীয় লোকজন চরে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় জমির মধ্যে পড়ে থাকতে দেখেন। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শালনগর গ্রামে শতশত মানুষ তাকে একনজর দেখতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
গ্রামবাসীরা জানান, মো. টিটুল খাঁন একজন পরিশ্রমী কৃষক ছিলেন। কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি গরু লালন-পালন করতেন। গরুকে পানি খাওয়াতে গিয়েই তার এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন।
অপরদিকে মতিনগর গ্রামে বজ্রপাতে আহত মো. শহীদ শেখ জানান, সকাল ১০টার দিকে মো. বাবুল বিশ্বাস এবং তিনি বড়শি নিয়ে ইছামতী বিলে মাছ ধরতে যান। পরে বিকেল ৩টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে পাশের মৎস্য ঘেরের পাড়ে আশ্রয় নেওয়ার জন্য ছুটতে থাকেন। এর কিছু সময় পরে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি অচেতন পড়েন। পরে বিকেল ৫টার দিকে জ্ঞান ফিরলে দেখতে পান বেশকিছু দূরে বাবুল বিশ্বাসের নিথর দেহ পড়ে আছে। তখন তিনি পাশের অন্য মৎস্য ঘেরে থাকা মানুষের কাছে গিয়ে তাদের ফোন থেকে বাড়িতে ফোন দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় মুঠোফোনে বলেন, শালনগর ইউনিয়নে একজন, এবং নলদী ইউনিয়নে একজন, বজ্রপাতে মোট দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছি।
মো. তাহের/এসএইচএ
